বুধবার । জুলাই ১৭, ২০১৯ । । ০৭:৩৯ পিএম

বাজানদারের সংক্রমণ বাড়ছে, ফিরতে চান হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2018-09-11 14:51:17 BdST হালনাগাদ: 2019-01-14 21:48:24 BdST

Share on

বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজানদার। সাম্প্রতিক ছবি

ভালো নেই বৃক্ষমানবখ্যাত আবুল বাজানদার। ভাতের কষ্টে গত মে মাসে হাসপাতাল ছেড়েছিলেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সরল গ্রামের এই বাসিন্দা। এখন নিজ বাড়িতে মানবেতর দিন কাটছে তার। নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে হাত ও পায়ের শিকড়ের মতো অংশগুলো।


তিনি বলেন, আমি এখন খুব অসুস্থ। আমার হাত পায়ের বিভিন্ন অংশের শিকড়গুলো ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। শিকড়গুলো প্রায় আধা ইঞ্চিরও বেশি পরিমাণে বেড়েছে।


'শরীরের ব্যথায় দিন-রাত কুঁকড়ে থাকি। রাতের বেলায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।'


অতিরিক্ত ব্যথা সহ্য করতে না পেরে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পেইনকিলার কিনে খাই। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হয় না। তাছাড়া ফার্মেসিগুলো এখন আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ দিতে চায় না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা যদি আমাকে আগের মতো চিকিৎসা করতেন তাহলে হয়তো আমি সুস্থ্য হয়ে যেতাম। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে রোগটা সেরে যেতো বলে মনে করেন তিনি।


আবুল বাজানদার বলেন, আমার এই বিরল রোগটা সম্পর্কে বিদেশের অনেক ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞরা অবগত আছেন। তাছাড়া আমার অসুখটা ধরা পরার প্রাথমিক অবস্থায় আমেরিকার একদল ডাক্তার আমাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করতে চেয়েছিল। বিদেশি এবং আমাদের দেশের ডাক্তারদের যৌথ সহায়তা পেলে হয়তো আগের মতো সুস্থ্য হয়ে যাবো।


'আমার সব কাজ এখন পরিবারের লোকজনকে করে দিতে হয়। নিজের হাত দিয়ে কিছু করতে পারি না। নিজের মেয়েটাকে পর্যন্ত হাত দিয়ে আদর করতে পারি না। শারীরিকভাবে যেহেতু অচল তাই কোন ধরনের উপার্জন করতে পারি না। গ্রামের ১০ জনে যা দেয়, তাই দিয়ে স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছি। প্রথম এক বছর একটি গার্মেন্ট কোম্পানি প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য করেছে। এখন তাও বন্ধ। হাসপাতালের এক ডাক্তার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলাম সেটা দিয়ে একটি বাড়ি তৈরি করেছি। মাথার ওপর একখণ্ড ছাদ থাকলেও হাঁড়িতে চাল নেই। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও ডাক্তারদের সাহায্য প্রার্থনা করছি।'


আবুল বাজানদার এপিডার্মো ডিসপ্লেশিয়া ভেরুকোফরমিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সংবাদমাধ্যমের খবর হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই বছর চিকিৎসা নিয়েছেন।


বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিল ঢামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


এ বিষয়ে আবুল বাজানদারের চিকিৎসক শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, গত দুই সপ্তাহ আগে আবুল আমাকে ফোন করেছিল। আমি তাকে হাসপাতালে আসতে বলেছি। তাকে বলার পরেও সে যদি না আসে তাহলে আমাদের আর কি করার আছে। সে যখনই আসবে, আমরা নতুন করে চিকিৎসা শুরু করবো।


গত ২৬শে মে কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট থেকে চলে যান আবুল বাজানদার। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চিকিৎসা নিতে বিভিন্ন অসুবিধার দাবি করেন তিনি। পরে তার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরাও আবুলের বিষয়ে তাদের নানা অসন্তোষের কথা বলেন।


আবুল বাজানদার তখন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্যারেরা বলছেন, এটা পুরোপুরি সমাধানে আসবে না। তারা অস্ত্রোপচার করবেন, আবার হবে। ২৫ টা অস্ত্রোপচার হয়ে গেছে, আরও করবেন। তাই চলে এসেছি।’



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত