মঙ্গলবার । অক্টোবর ২০, ২০২০ । । ০২:২৪ পিএম

পড়তে বসলেই ঘুমে ঢলে পড়তামঃ ডাঃ এম আর খান

শৈশব ডেস্ক | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2017-01-24 03:35:44 BdST হালনাগাদ: 2017-01-24 03:44:12 BdST

Share on

জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান (১ আগস্ট ১৯২৮ - ৫ নভেম্বর ২০১৬)

'ছেলেবেলা আমার কাছে বেশ আনন্দের ছিল। ছেলেবেলায় আমি সারা দিন খেলতাম, সাঁতার কাটতাম। সারা দিন খেলা শেষে সন্ধ্যার পর পড়তে বসে ঘুমে ঢলে পড়তাম। পড়া আর হতো না। মূলত সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পড়তাম। ফুটবল খেলতাম, থিয়েটার দেখতাম, এগুলো বেশ আনন্দের সঙ্গে করতাম।'

নিজের শৈশবের কথা এভাবেই বলেছিলেন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খান।

ডাঃ এম আর খান আরও বলেন, আমার মা ভালো লেখাপড়া জানতেন। তাঁর কাছেই হাতেখড়ি আমার। নিজের সন্তানদের পাশাপাশি পাড়ার শিশুদেরও শিক্ষালাভের জন্য তিনি সাহায্য করতেন। আমার বাবা ১৯১৪ সালের দিকে এনট্রান্স পাস করেছিলেন। সে সময়ে বাংলাদেশের কোনো মফস্বল শহরে এনট্রান্স (বর্তমান মাধ্যমিক) পাস করা ছিল বেশ বড় ব্যাপার।

ছেলেবেলায় আমি সারা দিন খেলতাম, সাঁতার কাটতাম

ফুটবলে ১৩টি ট্রফি পেয়েছিলাম
ফুটবল খেলায় বেশ তুখোড় ছিলেন বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসার এই কিংবদন্তি।
'আমরা চার ভাই। মেজ ছিলাম আমি। আমার বাবা ভালো ফুটবল খেলতেন। ভাইরাও ফুটবল খেলত। রসুলপুর স্কুল দলের অধিনায়ক হিসেবে ১৩টি ট্রফি পেয়েছিলাম। ক্রিকেট টিম করেছিলাম সিক্স ফিল ব্রিগেড টিম নামে।'

প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করি
'রসুলপুর প্রাইমারি স্কুল থেকে পাস করে সাতক্ষীরা সদরের প্রাণনাথ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে (পিএন স্কুল) ভর্তি হই। ১৯৪৩ সালে এই স্কুল থেকেই প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করি। ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতায় গিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হই।'

মূলত সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত পড়তাম

কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি
'কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৪৫ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করি। এর পর ১৯৪৬ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই। ১৯৫২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি।'

কোনো কাজ ফেলে রাখতাম না
'খুব কর্মঠ ছিলাম ছোটবেলা থেকেই। সব কাজ সময়মতো করতাম। কোনো কাজ ফেলে রাখতাম না। মূলত মা-বাবার ইচ্ছাতেই এই পেশায় আসা। ডাক্তারি পাস করে শিশুস্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিই। শিশু চিকিৎসার মান বাড়াতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। শিশুদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এ পেশায় আসা আমার।'

কোনো কাজ ফেলে রাখতাম নাঃ ডাঃ এম আর খান

খেলাধুলা, সাতাঁর কাটা কিংবা ঘুরে বেড়ানোর পোকা ছিলেন ডাঃ এম আর খান, কিন্তু পড়াশোনায়ও তিনি মনযোগী ছিলেন। অন্য দশটা শিশুর মতোই ডানপিটে আর চঞ্চল ছিলেন তিনি, কিন্তু পড়াশোনায় রেখেছিলেন মেধার স্বাক্ষর। হয়ে উঠেছিলেন একজন কিংবদন্তি চিকিৎসক। বাবা-মায়ের প্রতি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তা তাঁর কথা থেকেই স্পষ্ট।

ডাঃ এম আর খানের জন্ম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলার রসুলপুরে। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর তিনি মারা যান।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত