মঙ্গলবার । জুন ২, ২০২০ । । ০১:০৩ পিএম

৫০ লাখ পরিবার আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক। নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2020-05-13 13:47:17 BdST হালনাগাদ: 2020-05-13 14:45:43 BdST

Share on

৫০ লাখ পরিবার আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছে

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবার ঈদের আগে নগদ অর্থ সহায়তা পাচ্ছে। তাদের এককালীন ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকাও ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ১১ মে, সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় এ অর্থ ছাড় করেছে বলে জানা গেছে।

 

তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবারকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে এ টাকা দেয়া হবে। ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে ডাক বিভাগের সেবা নগদের মাধ্যমে টাকা পাবে মধ্যে ১৭ লাখ পরিবার। ১৫ লাখ পরিবার পাবে বিকাশের মাধ্যমে। ১০ লাখ পরিবার রকেট এবং ৮ লাখ পরিবারে শিউরক্যাশের মাধ্যম এ অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১৪ মে, বৃহস্পতিবার এ টাকা প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর তা চলবে ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত। পরিবার প্রতি সদস্য সংখ্যা গড়ে চার জন ধরে দুই কোটি মানুষকে এ নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাজেট-১ শাখা ৬২৭ কোটি টাকা এবং বাজেট-৩ শাখা ৬৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। উদ্বোধনের দিন থেকে পরের ৪ দিন ১০ লাখ করে মোট ৪০ লাখ পরিবারকে এ অর্থ দেয়া হবে। বাকি ১০ লাখ পরিবারও অর্থ পেয়ে যাবে এর মধ্যেই। সুবিধাভোগীদের মোবাইল ব্যাংক হিসাবে এ টাকা পাঠানোর খরচও পরিশোধ করবে সরকার। সেবা মাশুল বাবদ আরো ৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

 

প্রতি হাজারে টাকা পাঠানোর সেবা মাশুল হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার প্রতি হাজারে মাত্র ৬ টাকা করে দেবে। অর্থাৎ পরিবারপ্রতি আড়াই হাজার টাকা পৌঁছাতে সরকারের বাড়তি খরচ হচ্ছে ১৫ টাকা করে।

 

এদিকে আগামীকাল ১৩ মে, বৃহস্পতিবার এই অর্থ সহায়তা কার্যক্রম শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র। তারা জানায়, ইতোমধ্যে চূড়ান্তও হয়েছে ৩৪ লাখ পরিবারের তালিকা। নানা কারণে এখনো বাকি ১৬ লাখ পরিবারের তালিকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে তা শিগগিরই চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

 

অনিয়ম ঠেকাতে এবার উপকারভোগীদের নামে করা ডিজিটাল কার্ডের ভিত্তিতে এই সহায়তা দেয়া হবে। এ জন্যই তালিকা করতে কিছু সময় লাগছে বলে জানা গেছে। রিকশা-ভ্যানচালক, দিনমজুর, পরিবহণ-নির্মাণ-কৃষি শ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, হকাররা আছেন এ তালিকায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন এ তালিকা তৈরি করেছে। যা চূড়ান্তভাবে যাচাই করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের তথ্য, পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য, জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার, সম্পদের প্রাপ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে কোন জেলায় কত পরিবার এ অর্থ সহাযতা পাবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

তালিকা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন, জামালপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় এই সুবিধা পাবে এক লাখ করে পরিবার। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ জেলায় ৯০ হাজার করে পরিবার পাবে এই সহায়তা। গাজীপুর, রাজশাহী ও রংপুর জেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৮০ হাজার করে পরিবার এই সুবিধা পাবে।

 

এছাড়া ফরিদপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, বাগেরহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার ৭৫ হাজার করে পরিবারকে এ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

 

নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলায় এই সহায়তা পাবে ৭৭ হাজার পরিবার। বাকি এলাকাগুলোতে ৪০ হাজার থেকে ৭২ হাজার পর্যন্ত পরিবারকে এ সহায়তা দেয়া হবে।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব পরিবারকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে তাদের মধ্যে যাদের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট নেই, তাদের একাউন্ট খুলতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

আর সরকারের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা এটিতে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে আরো বেশি মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তার আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত