বৃহস্পতিবার । অক্টোবর ২৪, ২০১৯ । । ০৮:৫৫ এএম

দিনশেষে রোগীর হাসিই আমার কাছে সেরা: ডা. নাফিসা

সৈনূই জুয়েল | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2018-03-12 18:52:37 BdST হালনাগাদ: 2019-03-09 18:04:08 BdST

Share on

ডা. মাফিয়ান নাফিসা হক। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম।

অনেক প্রতিবন্ধকতা সামলে এগিয়েছেন তিনি। এগুচ্ছেন এখনও। স্বপ্ন দেখেন অনেক মানুষকে তাদের দোরগোড়ায় দন্ত সেবা পৌঁছে দেবার। উন্নত, পরিপাটি আর কার্যকর সেবা। মানেন, সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আছে। সে অনুযায়ী ভূমিকাও রাখেন। তিনি একজন তরুণ দন্ত চিকিৎসক। একজন আলোকিত নারী। এক যুগেরও বেশি সময়ের চিকিৎসা চর্চা তার। যার কথা বলছিলাম তিনি ডা. মাফিয়ান নাফিসা হক। রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে তার প্রতি আস্থাশীল রোগীর সংখ্যা অনেক।

 

নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমের একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার শৈশব, শিক্ষা, কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের নানা সঙ্গ-অনুষঙ্গ।

 

শৈশবে চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলাম
ডা. মাফিয়ান নাফিসা হকের জন্ম ১৯৮১ সালের ২২ জানুয়ারি। ঢাকায়। আদিবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। বাবা মোঃ মোজাম্মেল হক। মা কাজী আক্তারুন নাহার। দুজনেই প্রয়াত। বাবা মোজাম্মেল হক পেশায় একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন।

 

বাবার কর্মজীবনের সুবাদে ডা. নাফিসার শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জ শহরে। সেখানকার স্থানীয় একটি স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি।

 

‘ছবি আঁকতে ভাল লাগত। ছোটবেলায় চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলাম।’ জানালেন নাফিসা।

 এ্যাসথেটিক ডেন্টাল ক্লিনিকের নিজ কার্যালয়ে ডাঃ নাফিসা

এরপর ঢাকায় এসে তিনি ভিকারুননিসা নুন স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখান থেকেই নাফিসা ১৯৯৬ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। সিটি ডেন্টাল কলেজ থেকে ২০০৩ সালে তিনি বিডিএস (ব্যাচেলর ইন ডেন্টাল সার্জারি) সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে তিনি একই কলেজে ইন্টার্নশিপ করেন। একই বছরের অক্টোবর মাসে খণ্ডকালীন চাকরি হিসেবে উপশম হেলথ কমপ্লেক্সের জগন্নাথপুর-নর্দা শাখায় তিনি রোগী দেখতেন। এখান থেকেই তার কর্মজীবনের সূচনা।

 

ডা. নাফিসা ২০০৫ সালে সিটি ডেন্টাল কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সর্বশেষ তিনি ২০১২ সালে কলেজের অর্থোডন্টিক্স বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন শিক্ষকতা ছেড়ে দেন।

 

২০১৩ সালে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এআইইউবি) থেকে তিনি জনস্বাস্থ্য (পাবলিক হেলথ) বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালে তিনি ইউএসএআইডির ফেলোশিপ অর্জন করেন। এর আওতায় তিনি এক বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০১৫ সালে অসটেম ইমপ্ল্যান্ট (বিশ্বখ্যাত ইমপ্ল্যান্ট কোম্পানি) কর্তৃক তিনি দাঁতের ইমপ্ল্যান্ট বিষয়ক একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। এই কোর্সের আওতায় বাংলাদেশ থেকে ছয় জন দন্তচিকিৎসকের আমেরিকা গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ হয়, তাদের মধ্যে ডা. নাফিসা ছিলেন একমাত্র নারী।

 

আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে অসটেম ইমপ্ল্যান্ট আয়োজিত সিএএস-কেআইটি (ডেন্টাল প্রযুক্তি) ব্যবহার করে সাইনাস বোন গ্র্যাফট বিষয়ে আরেকটি পেশাদারী কোর্স সম্পন্ন করেন। চীনের শেনজেনে জিবিআর স্পেশালিষ্ট কোর্সও সম্পন্ন করেন ডা. নাফিসা।

 আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট কোর্সে ডাঃ নাফিসার অংশগ্রহণ

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বাবিদ্যালয়ের (ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া) হারম্যান অস্ট্রো স্কুল অব ডেন্টিস্ট্রি থেকে দন্ত চিকিৎসা বিষয়ক একটি কোর্স সম্পন্ন করেন।

 

এছাড়াও তিনি লেজার ডেন্টিস্ট্রি ও এ্যাসথেটিক ডেন্টিস্ট্রি বিষয়ে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

 

ডা. নাফিসা ২০০৪ সালে বিয়ে করেন। তার স্বামী খন্দকার আবুল ফজল ফজলে হোসেন একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। কর্মরত আছেন একটি ব্যাংকের আইটি বিভাগে। তাদের সাড়ে তিন বছরের একমাত্র সন্তান ফাইজ নাফিস খন্দকার।

 

অবসরে গান শুনতে ভালবাসেন নাফিসা। ভাল লাগে শরীরচর্চা করতে। ভ্রমণে রয়েছে তার বিশেষ দুর্বলতা।

 

লক্ষ্য পেশাগত উৎকর্ষ
‘একজন চিকিৎসক হিসেবে শিক্ষকতা ও চিকিৎসা চর্চা সমান্তরালে চলে। আমি শিক্ষকতা পেশায় ভাল করছিলাম। কিন্তু চালিয়ে যেতে পারিনি। সময় আমার অনুকূলে ছিলনা। নিত্য-নৈমিত্তিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম।’ বলছিলেন ডা. নাফিসা।

 এ্যাসথেটিক ডেন্টালে রোগীর চিকিৎসা করছেন ডাঃ নাফিসা

শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোপুরি পেশানির্ভর হওয়া প্রসঙ্গে ডা. মাফিউন নাফিসা হক নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০০৪ সালের শেষের দিকে আমি যখন উপশম হেলথ কমপ্লেক্সে খণ্ডকালীন চাকরি করতাম, তখন রোগীর কনসাল্টেন্সি ফি ছিল ১০০ টাকা। বস্তির ভেতর একটি ছোট কক্ষে বসে রোগী দেখতাম। গরমে, ঘামে, ধুলাবালিতে দিনগুলো ছিল বেশ কষ্টের, ক্লান্তির। খেয়ে না খেয়ে, দৌড়ঝাপে, বাসে ঝুলে অফিস করতাম। বাসায় ফিরতে প্রায়ই অনেক রাত হয়ে যেত। ইন্টার্নশিপ কিংবা খণ্ডকালীন চাকরি- দুই জায়গাতেই ছিল নির্ধারিত সময়ের পরেও অধিক কাজের বাড়তি বোঝা। কিন্তু এত সময় দেয়ার পরেও প্রাপ্তি হত খুবই হতাশাব্যঞ্জক। এমনকি ঈদের আগের দিনও আমাকে বেশ রাত করে চেম্বারের রোগী দেখা শেষ করতে হয়েছে, কিন্তু বাসায় ফিরেছি খালি হাতে।

 

তিনি আরও বলেন, পড়াশোনা শেষ করার পরপরই আমাকে খুব কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। বাবা চাকরি থেকে অবসর নেন। স্বভাবতই আমাকে সংসারের অনেক বিষয়ের দায়িত্ব নিতে হয়। এক সময় বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবার চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পারিবারিক এমন নানা সংকটে মেয়ে হিসেবে দায়িত্ব এড়ানোর কথা কখনো ভাবিনি। পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ফলে আমাকে পুরোপুরি উপার্জনমুখী হতে হয়। এতসব সমস্যার বিপরীতে শিক্ষকতা থেকে প্রাপ্ত উপার্জন আমার জন্য যথেষ্ট ছিলনা। এছাড়া সিনিয়রদের অধীনে কাজ করাও ছিল আমার জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতার।

 

এরপর আমি উদ্যোক্তা হয়ে চিকিৎসা চর্চায় অধিক মনযোগী হয়ে উঠি। ২০০৬ সালে আমি এ্যাসথেটিক ডেন্টাল নামে নিজের ক্লিনিক চালু করি। উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ২৫/এ নম্বর বাড়িতে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান মাইডাস আমাকে ঋণ সহায়তা দেয়। ইস্টার্ন ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকের ঋণ সহায়তাও আমার কাজে এসেছে।
এ্যাসথেটিক ডেন্টাল ও দাঁত প্রসঙ্গে

 

২০০৬ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এ্যাসথেটিক ডেন্টাল উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের বেশ জনপ্রিয় ও আস্থাভাজন দাঁতের চিকিৎসা কেন্দ্র। আঁকাবাঁকা দাঁত সোজা করা, দাঁতের কসমেটিক চিকিৎসা, দাঁতের মাড়ি সমস্যা, শিশুদের দাঁতের সমস্যা, দাঁতের ইমপ্ল্যান্ট, ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি, অর্থোডন্টিক্সসহ দাঁতের প্রায় সব ধরণের সমস্যার আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা এখানে রয়েছে, জানান ডা. নাফিসা।

 উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে এ্যাসথেটিক ডেন্টাল

তিনি নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে অটোক্লেভ মেশিন থাকা অত্যন্ত জরুরী। দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সব সরঞ্জাম যেমন- মিরর প্রপ, টুইজার, ক্যারিয়ার প্রপ ইত্যাদি অটোক্লেভ মেশিনে স্টেরিলাইজ করে (জীবাণুমুক্ত) নেয়া বাধ্যতামূলক। অনেক সাধারণ ডেন্টাল ক্লিনিকে অটোক্লেভ মেশিন নেই। ফলে দাঁতের সুচিকিৎসার বদলে অপচিকিৎসা হয়।

 

এ্যাসথেটিক ডেন্টালকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল ক্লিনিক উল্লেখ করে ডা. নাফিসা বলেন, এখানে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। আমি ছাড়াও আছেন চারজন অভিজ্ঞ ডাক্তার। তাদের মধ্যে অন্যতম ডা. নাজমুল হাসান চৌধুরী (এফসিপিএস, অর্থোডন্টিক্স অ্যান্ড ডেন্টোফেসিয়াল অর্থোপেডিক্স)। তিনি মার্কস মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। আরও আছেন ওরাল ও ডেন্টাল সার্জন ডাঃ শাফিনাজ জামান এবং ডা. জহুরা ফেরদৌসি, ওরাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন ডা. তানিয়া আফরিন।

 

নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ্যাসথেটিক ডেন্টালে চিকিৎসক ও কর্মীদের টিম নির্বাচন করা হয়েছে।

 

কি ধরণের দাঁতের সমস্যা নিয়ে বেশিরভাগ রোগীরা আসেন জানতে চাইলে ডাঃ নাফিসা বলেন, এক শ্রেণির রোগী আছেন যারা দাঁতের ব্যাপারে বেশ সচেতন। তাদের সমস্যা দাঁতের সৌন্দর্য নিয়ে। দাঁতের মাঝে ফাঁক, দাঁত উচুনিচু, কিংবা দাঁতের অংশবিশেষ ভেঙ্গে গেছে ইত্যাদি। কিছু মানুষ আছেন যারা ছাই, নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজেন- তাদের মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দাঁতকে দুর্বল করে দেয়। আবার যারা ফাস্টফুড বা জাংক ফুড খান, তাদের দাঁতে ডিপ ক্যারিজ বা গভীর ক্ষয় হয়। চকলেট খেলেও ডিপ ক্যারিজ হয়, যদি নিয়মিত দাঁতের যত্ন না নেয়া হয়।

 এ্যাসথেটিক ডেন্টালের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম

তিনি আরও বলেন, চকলেট-চুইংগাম খাওয়া যাবেনা- ব্যাপারটা এমন না। না খেলে ভাল। আর খেতে হলে, খাওয়ার পর ভালভাবে দাঁত মাজতে হবে। প্রতিদিন দুইবার- রাতে খাওয়ার পর ও সকালে খাওয়ার পর দাঁত মাজার অভ্যাস করতে হবে।

 

তবে প্রত্যেকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ- অন্তত বছরে একবার দাঁত স্কেলিং ও পলিশিং করানো খুব জরুরী। কেননা, আমরা নিয়মিত দাঁত মাজলেও দাঁতের ভেতরের দিকে কিছু কিছু স্থানে ব্রাশ পৌঁছায় না। ফলে দিনের পর দিন দাঁতের সেই স্থানগুলো অপরিচ্ছন্ন থেকে যায়।

 

বাবা আদর্শ, অনুপ্রেরণা মা
‘বাবার জীবনাচরণ ও আদর্শে দারুণ প্রভাবিত আমি। আর আমার সাফল্যের যা কিছু অর্জন তার পেছনে ছিলেন আমার মা। মায়ের জন্যই আমি ডা. নাফিসা। মায়ের চেষ্টা না থাকলে আমার মেডিকেলে পড়াই হত না। মা চেয়েছিলেন আমি দন্ত চিকিৎসক হই’

 ডাঃ নাফিসার বাবা-মা মোজাম্মেল হক ও আক্তারুন নাহার

ডা. নাফিসার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- মোজাম্মেল হক ছিলেন নারায়ণগঞ্জের প্রথম জেলা প্রশাসক। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী মোজাম্মেল হক পূর্ব পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ১৯৬৮ সালের বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার ছিলেন।

 

তিনি তথাকথিত প্রথাবিরোধী ও সংস্কারপন্থী মানুষ ছিলেন। তিনি সানন্দে সংসার গড়েছিলেন আক্তারুন নাহারকে বিয়ে করে। আগে থেকেই আক্তারুন নাহারের দুই সন্তান ছিল। সেই সময়ে এমন একটি বিয়ের ঘটনা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার ব্যাপার, প্রশংসার যোগ্য। মোজাম্মেল হক ও আক্তারুন নাহার দম্পতির সংসারে পরে তিন মেয়ের জন্ম হয়। তিন মেয়ের মধ্যে ডা. নাফিসা দ্বিতীয়।

 

যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছোট বোন ইল্লিনা হক (বৈতরণী হক নামে লেখালেখি করেন) তার অনেক সুখ-দুঃখের সঙ্গী। নাফিসার সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে ইল্লিনার অনুপ্রেরণাও। তার লেখালেখিও নাফিসার বেশ পছন্দের।

 

৮০ ভাগ পেশাদারী, ২০ ভাগ সংসারী
চিকিৎসাকে আমি শুধু পেশা হিসেবেই নয়, ব্রত হিসেবে নিয়েছি। এটি শুরুতে এমন ছিলনা। চিকিৎসা চর্চার মধ্য দিয়ে আমার এমন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। যখন দেখি, একজন রোগী দাঁতের সমস্যায় প্রচণ্ড ভুগছেন। তিনি আমার কাছে এলেন। আমি তার চিকিৎসা করলাম। তার ভোগান্তি লাঘব হল, তিনি হাসলেন। আমার কাছে ওই রোগীর এই হাসিটার চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু নেই। এটি আমার কাছে পৃথিবীর সেরা আনন্দ।

 এ্যাসথেটিক ডেন্টালের বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পে ডাঃ নাফিসা ও তার দল

আমি এই আনন্দের জন্য আমার প্রায় সবটুকুই নিয়োজিত করেছি পেশাদারিত্বের উৎকর্ষতায়। বলা যেতে পারে আমি ৮০ ভাগ পেশাদারী, ২০ ভাগ সংসারী। এতে আমার ব্যক্তিজীবন প্রভাবিত হয়েছে- তা অস্বীকার করব না। অনেক মানুষের ভালবাসা নিয়ে বেঁচে আছি। আমার শাশুড়ি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

 

রোগীকে অন্তত ৩০ মিনিট সময় দেই
লন্ডনের ‘বিএমজে ওপেন’ মেডিকেল জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একজন ডাক্তার রোগীকে গড়ে ৪৮ সেকেন্ড সময় দেন। কিন্তু ডা. নাফিসা জানালেন ভিন্ন কথা।

 

‘এখানে হয়ত এমবিবিএস ডাক্তারদের কথা বলা হয়েছে। আমরা যারা দাঁতের চিকিৎসক, তাদের পক্ষে একজন রোগীকে এত কম সময় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। অন্যদের কথা বাদই দিলাম। আমাকে আমার রোগীদের অন্তত ৩০ মিনিট সময় দিতেই হয়। নইলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না।’

 

রোগীকে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত সময় দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় তা আমি মনে করিনা। বরং ফলোআপ করতে হয়। খোঁজ-খবর রাখতে হয়। এবং এটি আমি করি।

 ডাঃ আফিউন নাফিসা হক। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম

সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়াতে পারিনা
সামাজিক ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকে আমি এ পর্যন্ত ৫টি বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প করেছি। এসব মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার রোগীকে দাঁতের চিকিৎসা দিয়েছি। ২০১৪ সাল থেকে আমি এসব ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করছি।

 

ভবিষ্যতে ডা. মাফিয়ান নাফিসা হক একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রাম্যমান দন্ত চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করতে চান।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত