বৃহস্পতিবার । অক্টোবর ২৪, ২০১৯ । । ০৮:৫৫ এএম

রূপচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জরুরী: নীলোফার খন্দকার

সৈনূই জুয়েল | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2018-05-07 20:16:59 BdST হালনাগাদ: 2018-05-15 14:17:25 BdST

Share on

নীলোফার খন্দকার, সত্ত্বাধিকারী, নীলো’স বিউটি স্যালন

‘দেশে এত বছরেও কোন রূপচর্চা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। ফলে এখনও আমাদের স্যালন বা পার্লারগুলো আদিবাসী মেয়েদের দিয়ে কাজ করানোর উপর নির্ভরশীল। সাধারণ মেয়েরা এ পেশায় আসতে চায়না। সুশীল সমাজ পার্লারকর্মীদের সাদরে গ্রহণ করেনা। এতে পার্লারকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই মর্যাদা সংকটে ভোগেন।’


নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমের একান্ত সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলছিলেন নগরীর ঐতিহ্যবাহী ও অভিজাত রূপচর্চা সেবাকেন্দ্র নীলো’স বিউটি স্যালনের সত্ত্বাধিকারী নীলোফার খন্দকার। সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপনে উঠে এসেছে নীলোফার খন্দকারের শৈশব, শিক্ষা, কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের নানা অনুষঙ্গ।


নীলোফার বলেন ‘শহরের আনাচে-কানাচে এত এত বিউটি পার্লার, স্যালন। দেখে মনে হয়- ঘরে ঘরে রূপচর্চা বিশেষজ্ঞের ছড়াছড়ি। সবাই বিউটিশিয়ান হতে চায়, কিন্তু কেউ শিখতে চায় না। আবার যারা ভাল কাজ করছেন, তাদের কোন রূপচর্চা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যাপারে কোন ভাবনা নেই। এ ব্যাপারটি আমাকে তাড়িত করে।’

নীলোফার খন্দকারের বক্তব্য
রূপচর্চা সেবায় ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতালব্ধ নীলোফার খন্দকারের জন্ম ১৯৪২ সালে ১০ অক্টোবর। ভারতের দিল্লীতে। নিজবাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বানেশ্বরদী গ্রামে। বাবা এন এইচ খন্দকার। মা মরিয়ম বেগম।


এন এইচ খন্দকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৫০’র দশকে পূর্ব পাকিস্তান সরকারি প্রেসের (বর্তমান বিজি প্রেস) ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের মুদ্রণ ও মণিহারি বিভাগের নিয়ন্ত্রক (কন্ট্রোলার অব প্রিন্টিং অ্যান্ড স্টেশনারি) পদে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরি থেকে তিনি ১৯৭৪ সালে অবসর নেন।


নীলুফার খন্দকারের মা মরিয়ম বেগম ছিলেন ব্যবসায়ি ও রাজনীতিক। ‘রূপায়ন’ নামে ব্লক ও স্ক্রিন প্রিন্টের ব্যবসা ছিল তার। সে সময়ে তুমুল জনপ্রিয় ওই ব্যবসার পরিসরও ছিল বেশ বড়। তিন দশকের (১৯৫২-১৯৮৬) সফল ব্যবসায়ি মরিয়ম বেগম পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ১৯৯৮ সালে বৃহত্তর ঢাকার ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।


তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নীলোফার দ্বিতীয়। তার ভাই একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি। তার প্রয়াত বড় বোন রোজী লতিফ ছিলেন ইএমআই রেকর্ডিং কোম্পানির পরিচালক। ছোট বোন সুমনা হাসান স্টুডিও ২০০০ এর স্বত্বাধিকারী।  

নীলো’স বিউটি স্যালনের সত্ত্বাধিকারী নীলোফার খন্দকার
গৃহিণী হতে চেয়েছিলাম
করাচির সেন্ট জোসেফ হাই স্কুলে নীলোফার খন্দকারের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯৫৯ সালে তিনি এ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। সেখানকার হোম ইকোনমিকস কলেজ থেকে ১৯৬১ সালে ইন্টারমিডিয়েট সম্পন্ন করেন তিনি। একই কলেজে তিনি স্নাতক শ্রেণিতে পড়া শুরু করলেও তা সম্পন্ন করার আগেই তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।


নীলোফার ১৯৬১ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সে (পিআইএ) বিমানবালা হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে তিনি পিআইএ’র বৈমানিক সফদার ফিরোজ নানাকে বিয়ে করেন।


‘বিয়ের পরপরই আমি চাকরি ছেড়ে দিই। এর মধ্যে জাপানের একটি স্থানীয় এয়ারলাইন কোম্পানি সফদার ফিরোজকে হায়ার করে নিয়ে যায়। সেই সুবাদে আমারও জাপানে থাকার সুযোগ হয়। যদিও আমাদের দাম্পত্য বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।’


নীলোফার-সফদার দম্পতির বিয়ে ১৯৭১ সালে ভেঙ্গে যায়। সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার পর কঠিন মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে হয় নীলোফারকে। এরপর তিনি বিদেশে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন করেন তিনি। ভিসা পেয়ে যান সহজেই।

নীলোফার খন্দকারের বক্তব্য
তিনি বলেন, সে সময় ভিসা পাওয়ার ব্যাপারটা মোটেও জটিল ছিলনা। বিদেশে কেন যাচ্ছি- ভিসায় তাও উল্লেখ করতে হয়নি। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় চলে গেলাম। বিদেশেই স্থায়ী হয়ে থেকে যাব বলে ভেবেছি।


‘কেন বিদেশে এলাম, কি করবো এখানে- কিছুই ভাবিনি আগে থেকে।’


সুন্দরী, স্মার্ট, শিক্ষিতা, ইংরেজিতে ভাল দখল- এ সব গুণই ছিল নীলোফারের। ফলে কিছু একটা করতে পারবেন- এমন আত্মবিশ্বাস ছিল তার সহজাত।

 

'আমি এয়ার হোস্টেস কিংবা বিউটিশিয়ান হব- এমনটি আমার শৈশব স্বপ্ন ছিলনা। ছোটবেলায় ভাবতাম, বড় হয়ে গৃহিণী হব। সংসার নিয়েই থাকব।'


জীবন বদলে দেয়া ইনিড, কসমেটলজি
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় পৌঁছানোর মাস দুয়েকের মধ্যে নীলোফার খন্দকার রূপচর্চা সেবার প্রশিক্ষণ নেয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি সেখানকার ইনিড বিউটি কলেজে কসমেটোলজি কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলেন। এটি ছিল নয় মাস মেয়াদী একটি ডিপ্লোমা কোর্স।


‘কসমেটোলজি কোর্সটি দুটি স্তরে সম্পন্ন করতে হত। ৬ মাস মেয়াদী প্রাথমিক স্তরের (প্রাইমারি লেভেল) কোর্সটি সফলভাবে শেষ করতে পেরেছিলাম। কোর্স শুরু করার এক মাস পরেই বাকি পাঁচ মাসের জন্য আমি বৃত্তি পেয়েছিলাম। ফলাফলও বেশ ভাল করেছিলাম। পরবর্তী তিন মাস মেয়াদী উচ্চতর স্তরের (অ্যাডভান্সড লেভেল) কোর্সটিও বৃত্তি পেয়ে সম্পন্ন করি।’

ওকলাহোমার ইনিড বিউটি কলেজের কসমেটোলজিতে ডিপ্লোমাধারী নীলোফার খন্দকার
নীলোফার বলেন, কসমেটোলজিতে পড়ার পর আমাকে বসে থাকতে হয়নি। আমার প্রথম কাজের কাজের সুযোগ হয় ওখানকার একটি স্থানীয় স্যালনে। নাম ছিল কনি’স বিউটি স্যালন। এখানে প্রায় তিন বছর চাকরি করেছি।


‘ইনিড বিউটি কলেজ আমাকে রূপচর্চার মৌলিক বিষয়গুলো শিখিয়েছে। শিখিয়েছে রূপচর্চার নানাবিদ রূপান্তর (মডিফিকেশন)। আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ইনিড আর কসমেটলজি।’


এরপর নীলোফার খন্দকার ওকলাহোমা থেকে চলে গেলেন ভার্জিনিয়ায়।


‘১৯৭৫ সালের দিকে আমি ভার্জিনিয়ায় চলে যাই। সেখানে হেক্টস নামে জনপ্রিয় একটি সুপারশপ ছিল। এই সুপারশপের স্যালনে প্রায় দুই বছর কাজ করেছি।’


আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি সময় কাজ করেছি ভার্জিনিয়ায়, পারফেক্ট টেন স্যালনে। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ওখানে কর্মরত ছিলাম।


মায়ের জন্য দেশে ফেরা
বিদেশে অবস্থানকালে নীলোফার খন্দকার দেশে খুব বেশি আসেননি।


‘বিদেশে থাকাকালীন সময়ের মাঝে আমি দেশে দুবার এসেছি। শুধু মাকে দেখার জন্য। সবশেষে দেশে এলাম ১৯৯০ সালে। তাও মাকে দেখতে। এরপর আমার আর বিদেশে ফেরা হয়নি।’


দ্বিতীয় মাস থেকেই সাফল্য
‘৯০ দশকে ঢাকায় বড়জোর পাঁচটির মত বিউটি পার্লার ছিল- লিলি’স, লিভিং ডল, রোজ, লিসা’স। কিংস নামে একটি চীনা রেস্তোরাঁর মালিকের স্ত্রীর ছিল একটি বিউটি পার্লার। এটির কোন নাম ছিলনা। বেশিরভাগ বিউটি পার্লার চালাতেন বাংলাদেশে বসবাসকারী চীনারা। শুধু লিভিং ডল ছিল দেশি বিউটি পার্লার। এটি চালাতেন জেরিনা আজগর।’


নীলোফার খন্দকার বলেন, বনানীর ১৮ নম্বর রোডের একটি ফ্ল্যাটে ইমা সালাহউদ্দিন (ফুটবল খেলোয়াড় কাজী সালাহউদ্দিনের স্ত্রী) চালাতেন নারীদের ব্যায়ামাগার। নাম ছিল জ্যাজারসাইজ। তার কাছ থেকে তার প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আমি ১৯৯০ সালের এপ্রিল মাসে শুরু করি নীলো’স বিউটি স্যালন। মাসে দুই হাজার টাকা ভাড়া দিতাম। কর্মী ছিল মাত্র একজন।

রূপচর্চা সেবায় ৪৫ বছর ধরে সম্পৃক্ত নীলোফার খন্দকার। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
‘প্রথম মাসে আমার খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় মাস থেকেই আমি আলোর মুখ দেখেছিলাম। আমার খরচ তো হয়নি বরং মুনাফা হয়েছিল। ধীরে ধীরে আমার নীলো’স-এ বিদেশীরা আসতে শুরু করেছে। আমেরিকান, জার্মান, ব্রিটিশ নারীরা এখানে আসা শুরু করে।’


কেমন খরচ পড়ত তখনকার রূপচর্চা সেবায়- জানতে চাইলে নীলোফার খন্দকার নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চুলকাটা ৭৫ টাকা, চুলে হাইলাইট করা ১২০০ টাকা, মেনিকিউর-পেডিকিউর ৫০ টাকা। তিন মাস আমি কোন ছুটির দিন রাখিনি। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকত নীলো’স।


এক বছর পর বনানীর ওই ১৮ নম্বর রোডেই একটি ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষ ও তিনজন কর্মী নিয়ে কিছুটা পরিসর বৃদ্ধি করে তিনি শুরু করেন নীলো’স। তখন তার মাসে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া গুণতে হত। এই ঠিকানায় ছিলেন প্রায় তিন বছর।


‘এরপর আমি চলে আসি গুলাশানে। এটি ছিল তৃতীয় ঠিকানা। তিনটি কক্ষ ও সাতজন কর্মী নিয়ে নীলো’স তৃতীয় ঠিকানায় যাত্রা শুরু করে গুলাশানে। এই ঠিকানায় ছিলাম ২০০০ সাল পর্যন্ত।’


বর্তমান ঠিকানায় (রোড ৫৫, বাড়ি ১২-বি, গুলশান ২) নীলো’স এর আয়তন প্রায় সাড়ে চার হাজার বর্গফুট। কর্মরত আছে ৩২ জন কর্মী।


নীলোফার বলেন, বর্তমানে নীলো’স-এ রূপচর্চার যে কটি সেবা রয়েছে, সেসবের প্রায় সবগুলোই শুরু থেকে ছিল। পরে শুধু বডি মাসাজ যুক্ত করেছি।


‘তখনকার সময়ে চুলে রং করা (হেয়ার কালার) বলতে শুধু কালো রং বুঝাতো।’


শৌখিনদের বিড়ম্বনায় পেশাদাররা বিপাকে
‘আমার স্যালনে তিনি প্রায়ই আসতেন। রূপচর্চা সেবা নিতে নিতেই তার উদ্যোক্তা হবার শখ হয়। তিনি হঠাৎ করেই একটি স্যালন চালু করে ফেললেন। আমার স্যালন থেকে বেশি বেতন দেবার লোভ দেখিয়ে কয়েকজন মেয়েকে নিয়ে গেলেন। দেখা গেল কয়েক মাস পর তিনি আর স্যালন চালু রাখতে পারলেন না। এতে তার যে ক্ষতি হল, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হল আমার। কারণ এটি আমার পেশা, আমার জীবিকা নির্বাহের উপায়। আর তার জন্য এটি নিতান্তই শখের।’


এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার ঘটনা তুলে ধরে নীলোফার খন্দকার নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রূপচর্চা খাতে আমি এ সমস্যা প্রায়ই লক্ষ্য করছি। শৌখিন উদ্যোক্তাদের এমন বিড়ম্বনায় রূপচর্চার পেশাদার উদ্যোক্তাদের বেশি ক্ষতি পোহাতে হয়।

নীলো’স বিউটি স্যালনে নীলোফার খন্দকার। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
‘নগরীতে অনেক চাকচিক্য-জাঁকজমকভরা স্যালন-পার্লার গড়ে উঠেছে, অথচ সেবার মান মোটেও সন্তোষজনক নয়। নিম্নমানের কাঁচামাল (কেমিক্যাল) ব্যবহার করছে বেশিরভাগ স্যালন। রূপচর্চার মৌলিক বিষয়গুলোতে পর্যন্ত তাদের জ্ঞান নেই। গ্রাহককে নিম্ন মানের বা নামমাত্র সেবা দিয়ে বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।’


বিউটি স্কুলের দীর্ঘলালিত স্বপ্ন
‘আমি একটি বিউটি স্কুলের স্বপ্ন দেখি। দেশে এত বছরেও এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, যেখানে গুণগত মানের রূপচর্চা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আগ্রহী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থায়নে এগিয়ে এলে আমি একটি বিউটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ শুরু করতে পারি। জানিনা, আমার এ স্বপ্ন আদৌ পূরণ হবে, নাকি স্বপ্নই থেকে যাবে।’


বাংলাদেশে রূপচর্চা খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে নীলোফার খন্দকার বলেন, সেবামুখী এই পেশায় আরও উৎকর্ষ ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন ভাল মানের রূপচর্চা প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা, যা এখন সময়ের দাবি।


একটি ভাল মানের বিউটি স্যালনের মানদণ্ড কি হওয়া উচিত এমন প্রশ্নের উত্তরে নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নীলোফার খন্দকার বলেন, ভাল মানের বিউটি স্যালনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য পরিচ্ছন্নতা। তাছাড়া গ্রাহক সুপারিশও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। স্যালনের পরিবেশ, কর্মীদের দক্ষতা, গুণগত মানের কেমিক্যালের ব্যবহার, সেবায় সন্তুষ্টি- এ বিষয়গুলোও একটি ভাল মানের বিউটি স্যালনের বৈশিষ্ট্য।


আইয়ুব খানকে কাছে থেকে দেখেছি
১৯৬৩ সালের মে মাসের শেষের দিকে দেশে অনেক বড় ঘূর্ণিঝড় হয়। ওই ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

নীলোফার খন্দকারের বক্তব্য
‘সে সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন আইয়ুব খান। তিনি সিকরস্কি এস৬১এন হেলিকপ্টারে করে হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়কবলিত অঞ্চল ঘুরে দেখেন। সেই সফরে আমারও থাকার সুযোগ হয়েছিল। ঢাকার বর্তমান পুরাতন বিমানবন্দর থেকে এই সফর শুরু হয়। সফর শেষে হেলিকপ্টার কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এই সফরের জন্য আমাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। হাতিয়ার বন্যাকবলিত অঞ্চলের উপর দিয়ে যখন আমাদের হেলিকপ্টার যাচ্ছিল- এক জায়গায় দেখলাম একটি মৃত কুকুর পানিতে ভেসে আছে। আইয়ুব খানের সঙ্গে সেই সফরের ঘটনা আমার জন্য ছিল অনেক বড়, বিরল।’


নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে এভাবেই আইয়ুব খানকে কাছ থেকে দেখার ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন নীলোফার খন্দকার।


একা বেড়াতে ভাল লাগে না
নীলোফার খন্দকারের নিত্যদিনের জীবনযাপন প্রসঙ্গে জানা যায়, তিনি সাধারণত সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠেন। সাড়ে ৮টার মধ্যে নাশতা শেষ করেন। নাশতার পর এক কাপ কফি পান করেন। সোয়া ৯টার মধ্যে তিনি তার কর্মস্থল নীলো’স এর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে কর্মস্থল থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পৌনে ৮টায় রাতের খাবার খান।

মা মরিয়ম বেগমের সঙ্গে নীলোফার খন্দকার। ছবি: সংগৃহীত
‘খাবারে সাধারণত ছোট মাছ আর ফল সবসময়ই থাকে। মাংস সপ্তাহে একদিনের বেশি না খাইনা।’


বেড়াতে ভীষণ পছন্দ করেন নীলোফার খন্দকার।


‘কিন্তু এখন আর একা একা বেড়াতে যেতে ভাল লাগে না।’


মাকে নিয়ে নীলোফার খন্দকার উত্তরায় বসবাস করেন।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত