রবিবার । ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ । । ০৯:১৬ পিএম

আলোকিত নারী সংগীতা আহমেদ

ফ্যাশন হাউজে শুরু, রেস্তোরাঁয় সফল

সৈনূই জুয়েল | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2018-05-28 06:19:39 BdST হালনাগাদ: 2018-06-02 20:17:27 BdST

Share on

সংগীতা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, বিডাব্লিউসিসিআই

‘স্ট্রিট ফুডের প্রতি আমার সবসময়ই একটা ঝোঁক ছিল। দেখতে আকর্ষণীয়, খেতে সুস্বাদু আর দামে সহনীয় এসব খাবার খুব ভাল লাগত। জুয়েলের বাসা মিরপুর। সে সুবাদে আমরা মিরপুরে প্রায়ই চাপ-পরোটা খেতে যেতাম। সুস্বাদু এই খাবার নিয়ে কিছু করা যায় কিনা- এমন ভাবনা থেকেই ২০০১ সালে গুলশানে যাত্রা শুরু করে টাইম আউট।’


রাজধানীর বনানীর জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ টাইম আউট’র শুরুর গল্পটি এভাবেই নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডাব্লিউসিসিআই) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সংগীতা আহমেদ। দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সহ-সভাপতি পদেও।


আলোকিত এই নারী উদ্যোক্তা টাইম আউট রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপনা অংশীদার।


মিরপুরের চাপ-পরোটা থেকে বনানীর টাইম আউট
সংগীতা বলেন, আমি, জুয়েল, আমার ছোট বোন সামিনা সালমান ও তার স্বামী সালমান মাসুদ মিলে উদ্যোগ নিলাম রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করার। মিরপুর থেকে ২ জন বাবুর্চী আনা হল। সে সময় চাপ-পরোটাই ছিল আমাদের রেস্তোরাঁর প্রধান মেনু।

নিজের টাইম আউট রেস্তোরাঁর সামনে সংগীতা আহমেদ। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
‘গুলশান-১ এর তৎকালীন মাইডাস মিনি মার্টে ৩০০ বর্গফুটের একটি দোকান নিয়ে ২০০১ সালের ৫ নভেম্বর ‘টাইম আউট’ এর যাত্রা শুরু হয়। রেস্তরাঁর নামটি জুয়েলের দেয়া। শুরুতেই ক্রেতাদের ভাল সাড়া পাই। এক বছরের মধ্যে বেশ সাফল্যও আসে।’


এগারো মাস পর টাইম আউট বন্ধ হয়ে যায়। দুই বছর বন্ধ থাকে রেস্তোরাঁটি।


মাইডাস মিনি মার্টের জায়গাটিতে নির্মিত হয় বহুতল ভবন, যা আজকের পিংক সিটি শপিং কমপ্লেক্স।

বাবা-মায়ের মাঝে ছোট্ট সংগীতা (বা দিকের ছবি) ও বাবার সঙ্গে তরুণী সংগীতা আহমেদ (ডান দিকের ছবিতে)। ছবি: সংগৃহীত
সংগীতা আহমেদের জন্ম ঢাকায় (৪ জুলাই)। বাবা ড. তোফায়েল আহমেদ ও মা রেনু আহমেদ। পরিবারে তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সংগীতা সবার বড়। রেনু আহমেদ ২০০০ সালে ও ড. তোফায়েল আহমেদ ২০০৪ সালে প্রয়াত হন।


ড. তোফায়েল আহমেদ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। কর্মরত ছিলেন পরমাণু শক্তি কমিশন, বিসিআইসিতে। সর্বশেষ তিনি বিসিআইসির পরিচালক পদে থাকাকালীন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। মা রেনু আহমেদ ছিলেন নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী। তিনি সুদীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে।

সম্প্রতি ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ঢাকায় এসেছিলেন। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সংগীতা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
রেনু আহমেদের স্মরণে মহিলা সমিতি ২০০৪ সাল থেকে ‘রেনু আহমেদ মেমোরিয়াল ট্রেনিং প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প চালু রেখেছে।


বাবা ড: তোফায়েল আহমেদের পিএইচডি করার সুবাদে সংগীতা আহমেদের শৈশব কেটেছে ইংল্যান্ডে।


চার বছর ইংল্যান্ডে থাকার পর সংগীতার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ে। এখান থেকে তিনি মাধ্যমিক সস্পন্ন করেন।


অল্প বয়সে অনাকাঙ্খিত বিয়ে, সাংসারিক নানা টানাপোড়েন, জটিলতার কারণে সংগীতা আহমেদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হলেও তিনি দমে যাননি। চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। সঙ্গত কারণে তার সে সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।


তিনি আবারও ইংল্যান্ড চলে যান। ১৯৮৪ সালে তিনি সেখানকার ডেকোরাম কলেজ থেকে এ’ লেভেল সম্পন্ন করেন। হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক ও ১৯৯৫ সালে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

টাইম আউট রেস্তোরাঁর নানা বিষয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন সংগীতা আহমেদ।  ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
ফ্যাশন হাউজে শুরু
‘পারিবারিকভাবে আমরা একটি ফ্যাশন হাউজ চালু করেছিলাম। আমি, মা আর ছোট বোন মিলে ১৯৮৭ সালে এটি শুরু করেছিলাম, নাম দিয়েছিলাম ‘টপ গার্ল’। গুলশান-১ এর একটি মার্কেটে তিন লাখ টাকায় আমরা দোকানটি কিনেছিলাম। সে সময় বুটিকের তেমন কোন ব্যবসা ছিল না। ইসলামপুর থেকে কাপড় এনে বানানো হতো নানা নকশার পোশাক। ক্রেতাদের ভাল সাড়া পাচ্ছিলাম। বেশ ভালই চলছিল আমাদের ব্যবসা।’


আলোকিত নারী উদ্যোক্তা সংগীতা আহমেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের শুরুটা ফ্যাশন হাউজের মধ্য দিয়ে হলেও রেস্তোরাঁ ব্যবসার প্রতি তিনি তার আগ্রহ, পেশাদারিত্ব ও ধারাবিহিকতা রেখেছেন। দেখিয়েছেন সাফল্য।


শৈশব স্বপ্ন ‘ফেমাস নিউজক্যাস্টার’
সংগীতা আহমেদ ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে সংবাদ পাঠ শুরু করেন। পরের বছর (১৯৯৭) তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ইংরেজি সংবাদ পাঠিকা হিসাবে যুক্ত হন। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি বিটিভির রাত ১০টার ইংরেজি সংবাদের একজন নিয়মিত পাঠিকা।


সংগীতা বলেন, সংবাদ পাঠে আমি নিখাদ আনন্দ পাই। সংবাদ পাঠ আমার অন্যরকম আবেগ আর ভাললাগার জায়গা।

বিটিভির রাত ১০টার ইংরেজি সংবাদ নিয়মিত পাঠ করেন সংগীতা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
‘ছোটবেলায় ফেমাস নিউজক্যাস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম।’


সংগীতা আহমেদ ১৯৯৮ সালে সঙ্গীত শিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলকে বিয়ে করেন। সঙ্গীত ছাড়াও জুয়েল টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রযোজনা, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গ্রিনবী কমিউনিকেশন্স’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।


‘জুয়েল একজন চমৎকার মানুষ’ স্বামী প্রসঙ্গে একবাক্যে সংগীতার অভিব্যক্তি।


ব্যক্তিজীবনে সংগীতা আহমেদ দুই ছেলে ও এক মেয়ের মা। বড় ছেলে রিয়াদ শাহির আহমেদ হোসেন ডিজিটাল মিডিয়া এজেন্সি ম্যাগনিটো ডিজিটাল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। দ্বিতীয় সন্তান আরিক শামীল আহমেদ হোসেন একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ি। ছোট সন্তান আজমোনা হাসান, স্যার জন উইলসন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। রিয়াদের স্ত্রী নাভিন আহমেদ একজন মেকআপ শিল্পী। তিনি রূপচর্চা প্রতিষ্ঠান গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনের স্বত্বাধিকারী।


চ্যালেঞ্জের বছর ২০০১
একুশে টেলিভিশনে ২০০০ সালের দিকে জুয়েলের তৎকালীন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এভি গ্রাফ থেকে ‘বলতে চাই’ ও ‘সরাসরি’ নামে দুটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হত। অনুষ্ঠান দুটি বেশ জনপ্রিয়তাও পায়। অনুষ্ঠান দুটি নিয়ে জুয়েল-সংগীতা দম্পতির ব্যস্ত সময় কাটে।

২০১৭ সালে সংগীতা আহমেদ সামরিক বাহিনীর ক্যাপস্টোন কোর্স করেন। ছবি: সংগৃহীত
একুশে টেলিভিশনের কার্যক্রম ২০০১ সালে বন্ধ হয়ে গেলে থেমে যায় এভি গ্রাফের কার্যক্রম।


সংগীতা আহমেদ বলেন, টাইম আউট শুরুর এক বছর পর বন্ধ হয়ে যাওয়া, এভি গ্রাফের কার্যক্রম থেমে যাওয়া- সব মিলিয়ে খুব বাজে সময় পার করছিলাম তখন। ওই বছরটি ছিল আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জের বছর।


জীবন বদলে দেয়া বিডাব্লিউসিসিআই
‘সে সময় সেলিমা আহমাদ আমাকে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (বিডাব্লিউসিসিআই) যোগ দিতে বলেন। তখন আমি বিডাব্লিউসিসিআই’র সদস্য হই। দু’শ’ টাকা দিয়ে চেম্বারের একটি বিজনেস কাউন্সেলিংয়ে অংশ নেই। ওই কাউন্সেলিং আমার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। আমার ব্যবসায়িক ভাবনার আসে নতুন মোড়। শুরু হয় আমার নতুন যাত্রা।’


‘একই সঙ্গে অন্তত দুটি ব্যবসা চালানো উচিত। একটি বন্ধ হয়ে গেলে যেন আরেকটি নিয়ে এগুনো যায়।’


এরই মধ্যে সংগীতা আহমেদ বিডাব্লিউসিসিআইয়ের সাধারণ সদস্য থেকে বোর্ড সদস্য হন। ২০০৪ সালে তিনি চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে তিনি বিডাব্লিউসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।


উইমেন চেম্বারের একটি প্রকল্পের আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য গুলশানে ‘আরশি ফুড কোর্ট এন্ড মিনি বাজার’ নামে ১০টি স্টলের একটি বিক্রয়কেন্দ্র বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়। এখানকার ১০টি স্টলের মধ্যে একটি ছিল টাইম আউট। টাইম আউটে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে খাবারের মেনুও।

বিডাব্লিউসিসিআইয়ের একটি অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও বিডাব্লিউসিসিআইয়ের সভাপতি সেলিমা আহমেদের সঙ্গে সংগীতা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
‘সেসময় হঠাৎ করেই বাসা থেকে কাঁচা আমের জুস বানিয়ে আনা হয়েছিল। খুব অবাক হয়েছিলাম, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল সেই কাঁচা আমের জুস। সেই থেকে আমের ঋতুতে কাঁচা আমের জুস টাইম আউটের খুব জনপ্রিয় একটি মেনু।’


পরিচ্ছন্ন টাইম আউট, ১৮ বছরের গল্প
নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকূলতা পেরিয়ে চলিত বছরের নভেম্বরে ১৮ বছরে পা দেবে টাইম আউট।


সংগীতা আহমেদ বলেন, টাইম আউট মূলত তরুণ প্রজন্মের রেস্তোরা। চাপ-পরোটা এখনো টাইম আউটের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার মেনু। সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং পরিপাটি পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর টাইম আউটের বিশেষত্ব।


টাইম আউটের মূল রেস্তরাঁটি ঢাকার বনানীতে। গুলশান ১-এ রয়েছে টাইম আউটের একটি শাখা। মাঝে যমুনা ফিউচার পার্কেও চালু হয়েছিল টাইম আউট। পরে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।


নিজের ব্যবসায়িক নীতি ও পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায় আমি একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজের পরিকল্পনা করি। দীর্ঘ মেয়াদী ও স্বল্প মেয়াদী- এ দুই ধরণের ব্যবসা পরিকল্পনা রাখি। আর্থিক ও পদ্ধতিগত বিষয়গুলো নিয়মিত তদারকি করি। এতে ব্যবসার ডেটা বিশ্লেষণ সহজ হয়। আমি ক্রেতাদের আমার পরিবারের সদস্যদের মতই আমার রেস্তরাঁয় সেবা দিয়ে থাকি। আমার সন্তানদের যেমন আমি স্বাস্থ্যসম্মত ও ভাল খাবার পরিবেশন করি, তেমনি রেস্তরাঁয় ক্রেতাদের সেভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত ও ভাল খাবারের নিশ্চয়তা দেয়াও আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

টাইম আউট রেস্তরাঁয় সংগীতা আহমেদ। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
‘এখানকার কর্মীরা টাইম আউটকে ভালবেসে কাজ করেন। এখানকার সকল কর্মী অদক্ষ ছিল। তাদের অনেকেই এসেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। রেস্তোঁরায় কাজ করা, খাবার তৈরির ব্যাপারে তাদের কোন ধারণাই ছিলনা। এখন তারা স্টেকও বানাতে পারে।’


তিনি বলেন, প্রতি মাসের শুরুতে নির্ধারিত তারিখে টাইম আউটের কর্মীদের বেতন পরিশোধ করা হয়। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় মুনাফার পাঁচ শতাংশ।


বর্তমানে টাইম আউটের স্বত্বাধিকারী তিনজন- ব্যবস্থাপনা অংশীদার সংগীতা আহমেদ এবং অংশীদার সামিনা সালমান ও সংগীতা খান। সংগীতা খান পরে (২০০৫ সালে) টাইম আউটে যুক্ত হন।


আবাসিক-বাণিজ্যিক জটিলতা
রাজধানীতে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অভিযান প্রসঙ্গে সংগীতা আহমেদ বলেন, দেখুন সব দেশেই আবাসিক এলাকায় দোকানপাট, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসার রীতি চালু আছে। আমাদের এখানেও বহু বছর ধরে এ প্রথা চলছে। এর নিত্যনৈমিত্তিক চাহিদা, প্রয়োজনীয়তা তো আস্বীকার করার সুযোগ নেই।


‘বাণিজ্যিক এলাকায় সরকার তাহলে সহনীয় অংকের ভাড়া নির্ধারণ করে দিক। উচ্চ মূল্যে বাণিজ্যিক ভবনে ভাড়া দিয়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেরই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

সংগীতা আহমেদ, সঙ্গে সেলিমা আহমেদ, শমী কায়সারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ

তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণের দায়বদ্ধতা আছে। এ বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা উচিত। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আগে তাদেরকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া উচিত।


ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া ও ব্যবসা উচ্ছেদ করার সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে বলেও উল্লেখ করেন এই নারী উদ্যোক্তা।


সংগীতা আহমেদ প্রায় তিন বছর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন ‘দ্য স্কাই রুম ডাইনিং’ রেস্তোঁরার সঙ্গে।


ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সংগীতা বলেন, দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অন্তত একটি করে টাইম আউটের শাখা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।


নতুন যারা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে সংগীতা আহমেদ বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কথা মাথায় রেখে পণ্য বা সেবায় সময়োপযোগীতা, বিশেষত্ব, নতুনত্ব অপরিহার্য। প্রতিবন্ধকতা এলে ঘুরে দাঁড়াতে হবে, চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবার সাহস রাখতে হবে।

টাইম আউট রেস্তোরাঁর সামনে সংগীতা আহমেদ। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
‘আমার ব্যবসায়ি হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে মায়ের অনুপ্রেরণা ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায়িক আদর্শ সেলিমা আহমাদ।’


জীবনযাপন
সংগীতা আহমেদের দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রসঙ্গে জানা যায়- তিনি সকাল ৮টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন। তবে বিছানায় তিনি নাশতা সেরে ফেলতে পছন্দ করেন।


‘কেন জানিনা- টেবিলে বসে ফরম্যালি নাশতা করতে ভাল লাগেনা। এই অভ্যাস আমার বহু আগে থেকেই। একেকজনের একেক রকম ঘরোয়া অভ্যাস থাকে। আমার কাছে এটি কমফোর্টেবল লাগে।’

স্বামী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলের সঙ্গে সংগীতা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
সুনির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান, মিটিং না থাকলে তিনি সাধারণত ১১টায় বাসা থেকে বের হন। রেস্তরাঁয় যান। সেখান থেকে যান উইমেন চেম্বারসহ তার বিভিন্ন কর্মস্থলে। সাধারণত ৫টায় বাসায় ফেরেন। রাত ১২টায় তিনি ঘুমানোর প্রস্তুতি নেন। তবে ঘুমাতে ঘুমাতে তার রাত ১টা থেকে ২টা বেজে যায়।


আতিথেয়তার প্রতি ভীষণ ঝোঁক সংগীতা আহমেদের। অবসরে বেড়াতে ভালবাসেন তিনি। পছন্দ করেন সিনেমা দেখতে।


‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি মুভিটি বেশ ভাল লেগেছে।’

সংগীতা আহমেদের পুরো পরিবার। পেছনের সারিতে বা থেকে- স্বামী জুয়েল, বড় ছেলে রিয়াদ, ছোট ছেলে আরিক এবং সামনের সারিতে বা থেকে- মেয়ে আজমোনা, পুত্রবধূ নাভিন আহমেদ (রিয়াদের স্ত্রী)। ছবি: সংগৃহীত
হলে গিয়ে সিনেমা দেখেন কিনা- ‘ হলে সিনেমা দেখতে ভীষণ পছন্দ করি।’


সর্বশেষ হলে গিয়ে তিনি বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’ সিনেমাটি দেখেছেন।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত