বুধবার । মার্চ ২০, ২০১৯ । । ০২:২৩ পিএম

মান আর পেশাদারিত্ব রূপচর্চা সেবার প্রাণ: নাভিন আহমেদ

সৈনূই জুয়েল | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2018-07-16 20:03:33 BdST হালনাগাদ: 2018-08-04 11:04:54 BdST

Share on

নাভিন আহমেদ, ব্যবস্থাপনা অংশীদার, গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালন। ছবি: নতুনআলো২৪.কম

‘শুরুর দিকে রূপচর্চা ছিল আমার শৌখিন কাজ। তবে, যখন দেখলাম রূপচর্চার মর্যাদাপূর্ণ পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা ও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, তখন আমি এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন বোধ করলাম। মেকআপ বিষয়ে পড়তে চলে গেলাম কানাডা। দেশে ফিরে একটু একটু করে কাজ শুরু করলাম। চাকরির পাশাপাশি পার্ট-টাইম কাজ হিসেবে বেছে নিই রূপচর্চা সেবা দেয়া। বড় পরিসরে স্যালন শুরু করার ঝুঁকি নেয়ার আগে নিজেকে একটু ঝালিয়ে নিতে চাইলাম।’


নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমের একান্ত সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলছিলেন নগরীর গুলশানের অভিজাত রূপচর্চা কেন্দ্র গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনের ব্যবস্থাপনা অংশীদার নাভিন আহমেদ।

 

গালা এক বছরেরও কম সময়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পেয়েছে জনপ্রিয়তা। বিশেষত ব্রাইডাল মেকওভার বা বিয়ের সাজে স্যালনটি যথেষ্ট গ্রাহকপ্রিয়তা পেয়েছে। আর এর নেপথ্যে আছেন তরুণ মেকআপ শিল্পী নাভিন আহমেদ।


সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে নাভিন আহমেদের শৈশব, শিক্ষা, কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের নানা অনুষঙ্গ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈনূই জুয়েল।

গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনে গ্রাহককে সাজানোর কাজে ব্যস্ত নাভিন আহমেদ
নাভিন আহমেদের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ অক্টোবর। রাজধানীর পুরান ঢাকায়। পৈত্রিক বাড়ি ফরিদপুর। বাবা মাইজ উদ্দিন আহমেদ, পেশায় ব্যবসায়ি। মেসার্স রোজ ব্রিক নামে ইটকলের মালিক তিনি। মা আফশা মাইজ উদ্দিন। তিনিও যুক্ত আছেন ব্যবসায়।


পরিবারে দুই ভাইবোনের মধ্যে নাভিন বড়।


সানবীমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে নাভিনের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার শুরু। সপ্তম শ্রেণি থেকে ও’ লেভেল পর্যন্ত পড়েছেন স্কলাসটিকা স্কুলে। তিনি ২০০২ সালে ও’ লেভেল সম্পন্ন করেন।

 

শৈশবে স্বপ্ন ছিল চিত্রশিল্পী হব
সৃজনশীল কাজে ঝোঁক ছিল নাভিনের। ছোটবেলায় তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। তার শৈশব স্বপ্ন ছিল চিত্রশিল্পী হওয়া। স্কুলে পড়াকালীন ছবি এঁকে পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।

নিজ বাসার বারান্দায় নাভিন আহমেদ। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম

সাজগোজ আর মেকআপের সঙ্গে নাভিনের সখ্যতাও গড়ে ওঠে সেই স্কুলে পড়ার দিনগুলোতেই।


‘নিজে সাজতে পছন্দ করতাম। বেশি ভাল লাগত অপরকে সাজাতে। পরিবার, নিকট আত্মীয় আর বন্ধুদের সাজিয়ে দিতাম। ধীরে ধীরে আমার ছবি আঁকার ক্যানভাস হয়ে উঠেছে মানুষের মুখ।’


কিন্তু মানুষকে সাজাতে প্রয়োজন আরও নিখুঁত মেকআপ শৈলীর দক্ষতা আর বিজ্ঞতা। এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষারও যে প্রয়োজন, তা উপলব্ধি করেন নাভিন। কিন্তু এ ব্যাপারে আপত্তি করেন বাবা মাইজ উদ্দিন। কিন্তু মেয়ের সাফল্যে তাঁর এখন বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দ।


কি বলেছিলেন বাবা- উত্তরে নাভিন বলেন, আমাদের পরিবারে কেউ বিদেশে পড়তে যায়নি। একটি মেয়ে বিদেশে পড়বে, তাও আবার মেকআপ বিষয়ে। বাবা স্বভাবসুলভ বলেছিলেন, মেকআপ নিয়ে আবার পড়াশোনার কি আছে?

গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনে নাভিন আহমেদ
নাভিন ২০০৪ সালে পাড়ি জমান কানাডায়। টরন্টোর শেরিড্যান কলেজে কসমেটিক টেকনিক্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টস বিষয়ে দুই বছরের ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০০৭ সালে তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপণন (মার্কেটিং) বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।


নাভিন বলেন, শেরিড্যান কলেজে রূপচর্চা বিষয়ে পড়তে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার জন্য সহজ ছিলনা। পরিবারকে বোঝাতে বেগ পেতে হয়েছিল। এখানে পড়া আমার জন্য অনেক বড় টার্নিং পয়েন্ট। কসমেটিক টেকনিক্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট'র আওতায় আমরা অনেকগুলো বিষয় পড়েছি। ডার্মাটোলজি (ত্বক সংশ্লিষ্ট পড়াশোনা), মেকআপের স্পেশাল ইফেক্ট, থিয়েটার মেকআপ, মুভি মেকআপসহ নানা বিষয়।


নাভিন পড়াশোনা শেষ করে ওই বছরই দেশে ফিরে আসেন।

নাভিন আহমেদের বাসায় তোলা ছবি। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম

শুরুটা ফ্যাশন হাউজে
কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তা করলে আপনি আরও উন্নত ক্যারিয়ারসহ জীবনযাপনের সুযোগ পেতেন- এমন প্রসঙ্গে নাভিন বলেন, কানাডায় স্থায়ী বসবাসের কথা কখনোই ভাবিনি। আমি তো শুধু পড়াশোনার জন্য বিদেশে গিয়েছিলাম, সেখানে থেকে যাবার জন্য নয়। আমার শিক্ষা, অভিজ্ঞতা আমার দেশের মানুষের জন্য কাজে লাগানোই ছিল আমার লক্ষ্য। আমি আনন্দিত যে, আমি সেটি করতে পারছি।


নাভিন আহমেদ দেশে ফিরে ২০০৭ সালে গুলশানে নাভিন’স নামে একটি বুটিক হাউজ চালু করেন। এটি তিনি দুই বছর চালিয়েছেন।


বুটিক হাউজ বন্ধ হয়ে যাবার পর ২০১০ সালে তিনি বনানীতে অবস্থিত বিকনহাউজ স্কুল সিস্টেম-এ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কর্মরত ছিলেন দুই বছর।

স্বামী রিয়াদ, ছেলে কিয়ান ও মেয়ে আভিসার সঙ্গে নাভিন আহমেদ
২০১০ সালের ৭ জানুয়ারি নাভিন আহমেদ রিয়াদ শাহির আহমেদ হোসেনকে বিয়ে করেন।


রিয়াদ ডিজিটাল মিডিয়া এজেন্সি ম্যাগনিটো ডিজিটাল’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তিনি বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডাব্লিউসিসিআই) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সংগীতা আহমেদের বড় ছেলে।

 

পরিকল্পনা স্বনির্ভর জীবনযাপনের
বিয়ের আগে নাভিন ও রিয়াদের দুই বছরের সম্পর্ক ছিল। দুই বছরের পারস্পরিক সম্পর্ক, বোঝাপড়া নাভিন-রিয়াদ দম্পতির সাংসারিক জীবনকে অর্থবহ করে তুলেছে।

একটি টিভি অনুষ্ঠানের সেটে অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে নাভিন আহমেদ
‘বিয়ের আগে আমরা দুজন সিদ্ধান্ত নিলাম, বিয়ের পর আমরা আমাদের পরিবারের কাছ থেকে কোন রকম সহযোগিতা নিব না। বিয়ের সময় আমি ১৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতাম। রিয়াদের চাকরি থেকে মাসে পাওয়া যেত ২০ হাজার টাকা। এই টাকায় আমরা আমাদের সংসার শুরু করলাম।’


অথচ নাভিন ও রিয়াদের দুই পরিবারই প্রতিষ্ঠিত।


‘আমাদের সংসার শুরুর আগে রিয়াদ আমাকে জিজ্ঞেস করল- মিরপুরে ভাল পরিবেশে বাসা নিতে চাও, নাকি গুলশানে বস্তিতে বাসা নিয়ে থাকতে চাও।’


নাভিন-রিয়াদের স্বল্প আয়ে গুলশানে ভাল পরিবেশে বাসা নিয়ে থাকার সুযোগ ছিলনা। সেই টাকায় মিরপুরে অপেক্ষাকৃত ভাল বাসা পাওয়া যাবে- এই অর্থে রিয়াদের এমন জিজ্ঞাসা ছিল নাভিনের কাছে।

কানাডার শেরিড্যান কলেজে রূপচর্চা বিষয়ে (কসমেটিক টেকনিক্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) বিষয়ে পড়েছেন নাভিন আহমেদ
গুলশানেই থাকবেন- রিয়াদকে এমন সিদ্ধান্ত জানান নাভিন। মাসিক ১৪ হাজার টাকা ভাড়ায় গুলশানে নতুন ঠিকানায় সংসার শুরু হয় তাদের।


সংসারে আরেকটু আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে চাকরির পাশাপাশি নাভিন ঘরোয়া পরিসরে রূপচর্চা সেবা দেয়া শুরু করেন। রূপচর্চা সেবায় তিনি প্রধানত বেছে নেন বিয়ের সাজকে। বিশেষত গ্রাহকদের বাসায় গিয়ে তিনি কনে সাজানোর কাজের প্রচুর ফরমায়েশ পেতে শুরু করেন। এতে তিনি গ্রাহকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান, অর্জন করেন আস্থা।


এরই মধ্যে নাভিন বিকনহাউজ স্কুলের চাকরি ছেড়ে ২০১২ সালে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবে যোগ দেন। কর্মরত ছিলেন দুই বছর।

 

জীবনযাপনে নতুন মোড়, সিদ্ধান্তে আপসহীন
২০১৪ সালে নাভিনের প্রথম সন্তান কিয়ানের (কিয়ান হোসেন) জন্ম হয়। চার বছর বয়সী কিয়ান পিক্সিল্যান্ডে (প্রাক বিদ্যালয়) পড়ছে।

নিজ বাসায় নাভিন আহমেদ
মাতৃত্ব, ধর্মীয় অনুভূতি তার জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন আনে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন- নিয়মিত হিজাব পরবেন। কিন্তু হিজাব পরে সংবাদ উপস্থাপনে বাধ সাধে মাছরাঙ্গা কর্তৃপক্ষ।


‘মাছরাঙ্গা আমাকে জানায়, নির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় রীতি ধারণ ও তার পোশাকি প্রদর্শন (ড্রেস কোড) তাদের চ্যানেলের নীতি-পরিপন্থি। তারা আমার পারফর্ম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিল। এমনকি তারা আমাকে রাখতেও চেয়েছিল। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।’


ফলে নাভিন আহমেদ ২০১৪ সালে ছেড়ে আসেন মাছরাঙ্গা টেলিভিশন।

 

মনোযোগ কেবলই রূপচর্চা সেবায়
এরপর নাভিন পুরোপুরি রূপচর্চা সেবায় মনযোগী হন। কখনো নিজ বাসায়, কখনো গ্রাহকের বাসায় গিয়ে রূপচর্চা সেবা দিতে থাকেন।

স্টাইল ইন দ্য সিটি টিভি অনুষ্ঠানে নাভিন আহমেদ, সঙ্গে আলিশা প্রধান ও মানতাশা আহমেদ
রূপচর্চা সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা যখন নাভিনের বাসায় অবস্থান করতেন, তখন রিয়াদ বাসায় ফিরতে চাইলে তাকে দুই-তিন ঘণ্টা পর আসতে বলতেন নাভিন। নাভিনের যাপিত জীবনের দিনগুলো ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এভাবেই কেটেছে।


‘এমন অনেক হয়েছে অফিস সেরে রিয়াদ বাসায় আসতে পারত না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে থেকেছে’


বনানীতে নিজ বাসায় একটি কক্ষ নিয়ে যখন নাভিন রূপচর্চা সেবা দিতেন, তখন তার সঙ্গে একজন মেয়ে সহকারী ছিল।


ধীরে ধীরে গ্রাহকদের সাড়া বাড়তে লাগলো। বাসার একটি কক্ষে আর চালানো যাচ্ছিল না। নাভিন এবার গুলশানে একটি ফ্ল্যাটে তিনজন মেয়ে সহকারী নিয়ে রূপচর্চা সেবা দেয়া শুরু করেন। কিন্তু বাড়ি মালিক এ বিষয়টি জানতেন না।

গালা মেকওভার অ্যান্ড স্যালনে অংশীদার হিসেবে আছেন নাভিন আহমেদের মা আফশা মাইজ উদ্দিন (মাঝে), শাশুড়ি সংগীতা আহমেদ (ডানে) ও খালা শাশুড়ি সামিনা সালমান (বাঁয়ে)
‘গ্রাহকদের ভিড়, গাড়ির পার্কিংয়ে জটিলতাসহ নানা কারণে শুরু হল ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের অভিযোগ। কিন্তু বাড়ি মালিক বেশ ভাল আর আমার অনুকূলে ছিলেন বলে অনেক দিন ওখানে রূপচর্চা সেবা চালিয়ে যেতে পেরেছি।’

 

প্রস্তুতি ১০ বছরের
যিনি রূপচর্চা বিষয়ে বিদেশে পড়াশোনা করেছেন, ঘরোয়া পরিসরে যার কাজ প্রশংসা পেয়েছে, এমনকি যার একটি বড় গ্রাহক মহল তৈরি হয়েছে, তার কি একটি পূর্ণাঙ্গ বিউটি স্যালনের স্বপ্ন থাকবেনা?


‘নিশ্চয়ই আমার একটি স্যালনের স্বপ্ন ছিল, এবং সেটি বিদেশে পড়তে যাবার আগে থেকেই।’


তবে সে স্বপ্ন পূরণে বাধা কোথায়- উত্তরে নাভিন আহমেদ বলেন, আসলে গুলশানের মত অভিজাত জায়গায় একটি বিউটি স্যালন চালু করার জন্য বড় অংকের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেটির সংকুলান হচ্ছিল না। আবার কেউ যে বিনিয়গে এগিয়ে আসবে, তাকে একটি ভাল প্রস্তুতি, গ্রহণযোগ্যতা, দক্ষতা দেখানোরও ব্যাপার আছে।


২০০৭ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এই ১০ বছর ধরে তিনি তার কর্মদক্ষতা ও সুনামের স্বাক্ষর রেখেছেন। তৈরি করেছেন একটি বড় গ্রাহক মহলের আস্থা।

নাভিন আহমেদের বাসায় তোলা ছবি। ছবি: নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
অবশেষে বিনিয়োগে এগিয়ে এলেন তার মা আফশা মাইজ উদ্দিন, শাশুড়ি সংগীতা আহমেদ ও খালা শাশুড়ি সামিনা সালমান।


প্রায় ৪০ লাখ টাকার বিনিয়োগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে গুলশান ২ নম্বরে চালু হল ৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালন। এতে কর্মসংস্থান হল ২০ জন নারীর। নাভিনের তত্ত্বাবধানে ওই ২০ জন কর্মীর প্রশিক্ষণ চলল প্রায় চার মাস।


আধুনিক রূপচর্চার শতাধিক সেবা দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালন। স্যালনটির সঙ্গে কাজ করছে ওয়েডিং ডায়েরিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান।

 

নাভিন আহমেদ এরই মধ্যে গুণী মেকআপ শিল্পী হিসেবে রূপচর্চা অঙ্গনে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

বিয়ের সাজে তার নিখুঁত কাজ গ্রাহকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। সপ্তাহের সাতদিনই তিনি বিয়ের কনে সাজাতে ব্যস্ত থাকেন। এমনও দিন যায় তার ১০-১৫ জন বউ সাজাতে হয়, যেন দম ফেলার ফুরসৎ পাওয়াও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

 

বর্তমান ব্যস্ততা, গ্রাহকদের অভাবনীয় সাড়া, অল্প সময়ে গালা মেকওভার অ্যান্ড স্যালনের সাফল্যের পেছনে কোন বিষয়গুলো কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে নাভিন আহমেদ নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গুণগত মানের সেবা আর পেশাদারিত্বই আমি আমার স্যালনে নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থেকেছি। পেশাদারিত্বের মধ্যে অনেকগুলো বিষয় চলে আসে, যেমন- গ্রাহকবান্ধব আরামদায়ক পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কর্মীদের আচরণ, গ্রাহকের চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়। আধুনিক ও সময়োপযোগী রূপচর্চা সেবা দিতে হবে। গ্রাহকদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। আমরা এ বিষয়গুলো সবসময় নিশ্চিত করি।

বাবা মাইজ উদ্দিন আহমেদ, মা আফশা মাইজ উদ্দিনের সঙ্গে নাভিন আহমেদ

একটি নতুন স্যালন সাধারণত যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়, তার কোনটিই ঘটেনি গালা মেকওভারের ক্ষেত্রে। কেননা গালা নতুন হলেও, নাভিন আহমেদ রূপচর্চা সেবায় নতুন নন।


ব্যক্তিজীবনে নাভিন আহমেদ দুই সন্তানের মা। বড় সন্তান কিয়ান হোসেনের বয়স সাড়ে তিন বছর ও ছোট সন্তান আভিসা হোসেনের বয়স প্রায় এক বছর।


অবসরে নাভিন বেড়াতে ভালবাসেন। পছন্দ করেন সিনেমা দেখতে। তবে সবকিছুর মধ্যে তার পরিবারের গুরুত্ব তার কাছে সর্বাধিক। সন্তানদের নিয়ে সময় কাটানোই তার কাছে অধিক আনন্দের।


আগামিতে নাভিন আহমেদ বিয়ের পোশাকের ফ্যাশন হাউজ চালু করতে চান।

 

নিত্যদিনের জীবনযাপন
নাভিন আহমেদের জীবনযাপন প্রসঙ্গে জানা যায়, তিনি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন। ছেলে কিয়ানকে স্কুলে নিয়ে যান। বাসায় এসে প্রয়োজনীয় কিছু ঘরোয়া কাজ সারেন। বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে নাশতা ও দুপুরের খাবার (ব্রাঞ্চ) হিসেবে নাভিনের পছন্দ পরিজ আর স্মুদি। ব্যস্ততাজনিত কারণে সাধারণত তার প্রথাগত নাশতা বা দুপুরের খাবার খুব একটা খাওয়ার ফুরসৎ মেলেনা। দুপুর ১টায় তিনি তাঁর স্যালনে যান। সন্ধ্যা ৭টায় তিনি বাসায় ফেরেন। রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার সেরে ফেলেন। এরপর বাচ্চাদের নিয়ে সময় কাটান। ঘুমাতে ঘুমাতে তাঁর রাত ১টা থেকে ২টা বেজে যায়।


অবসরে প্রায়ই তিনি বাসায় সিনেমা দেখেন। তবে ইংরেজি টিভি সিরিজ তাঁর বিশেষ পছন্দের।

গালা মেকওভার স্টুডিও অ্যান্ড স্যালনে নাভিন আহমেদ
আইসল্যান্ডের কালো বালির সমুদ্র সৈকতে (ব্ল্যাক স্যান্ড বিচ) বেড়াতে যাবার ইচ্ছে তাঁর অনেক দিনের। সময় আর সুযোগের মেলবন্ধন হলে ঘুরে আসবেন সেখান থেকে। তবে ইতালি তাঁর ভীষণ পছন্দের ভ্রমণস্থান।


‘পুরো ইতালি আমার কাছে স্বপ্নের মত মনে হয়।’


পশ্চিমা ঘরানার পোশাকই (ওয়েস্টার্ন ওয়্যারড্রোব) নাভিনের অধিক পছন্দের। প্রিয় খাবার ডাল-ভাত। প্রিয় রং সাদা আর কালো।


অপরাধবোধ ও একটি সরল স্বীকারোক্তি
‘একটা অপরাধবোধ আমাকে সবসময়ই খুব তাড়িত করে। আমার দুটো বাচ্চাই খুব ছোট। আমার ছেলেটা আমাকে ছাড়া কিচ্ছু বোঝেনা। কিন্তু ওকে আমার সময়ই দেয়া হয়না। আমি যখন স্যালনে ব্যস্ত থাকি, আমার মা চলে আসেন আমার বাসায়। আমি বাসায় ফেরার পর মা তাঁর বাসায় যান। এটি সপ্তাহে দুয়েকদিনের ঘটনা হলেও মেনে নেয়া যেত। কিন্তু এটি প্রতিদিনের ঘটনা। এটি আমাকে আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। তার নিজেরও তো সংসার আছে, ব্যস্ততা আছে। আমার চেয়ে বরং মায়ের কাজ আর দায়িত্বের পরিসর অনেকে বড়।’



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত