বৃহস্পতিবার । অক্টোবর ২৪, ২০১৯ । । ০৮:৫৬ এএম

বিস্পোক ফ্যাশন ডিজাইনার ওয়াহিদা হোসেনের সাক্ষাৎকার

ফ্যাশন সংক্রামক, সীমানা ডিঙ্গিয়ে চলে: ওয়াহিদা হোসেন

সৈনূই জুয়েল | নতুন আলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2019-09-20 06:44:57 BdST হালনাগাদ: 2019-10-22 20:22:53 BdST

Share on

বিস্পোক ফ্যাশন ডিজাইনার ওয়াহিদা হোসেন, স্বত্বাধিকারী, রুবিজ। ছবি: নতুন আলো টোয়েন্টিফোর ডটকম

‘মায়ের কাছে শুনেছি আমি পাঁচ বছর বয়স থেকেই খেলার ছলে সুঁই-সূতা নিয়ে নানা কিছু করতাম। এটা সেটা সেলাই করতাম। বাচ্চাদের যেমন নানারকম সহজাত কর্মকাণ্ড থাকে, তেমনি আমার অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল সুঁই-সূতা। মা, নানীর কাছ থেকে প্রভাবিত হয়েছি। দেখা গেল বাসায় নতুন একটি ডিনার সেট আনা হল। মা সেই ডিনার সেটের সাথে মিলিয়ে ন্যাপকিন তৈরি করল। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে মায়ের কাজ দেখতাম। এমন অনেক ঘটনা থেকে আমিও উৎসাহী হয়ে নান কিছু করতাম।’


নতুন আলো টোয়েন্টিফোর ডটকমের একান্ত সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলছিলেন বিস্পোক ঘরানার ফ্যাশন হাউজ রুবিজের স্বত্ত্বাধিকারী ওয়াহিদা হোসেন। সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের নানা অনুষঙ্গ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈনূই জুয়েল।

তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে ওয়াহিদা হোসেন ও তার বাবা মেজর জেনারেল (অব:) আবদুস সালাম। ব্রাজিলে অবস্থিত যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে ১৯৯৪ সালের ছবি।
তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে ওয়াহিদা হোসেন ও তার বাবা মেজর জেনারেল (অব:) আবদুস সালাম। ব্রাজিলে অবস্থিত যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে ১৯৯৪ সালের ছবি।

ফ্যাশন ব্যবসার শুরুটা কিভাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে ওয়াহিদা হোসেন বলেন, ‘ব্রাজিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। একটি থিয়েটার প্রোডাকশনের কাজে যুক্ত ছিলাম- ১৫টি হ্যাট তৈরি করে দিয়েছিলাম। সেগুলো সবাই বেশ পছন্দ করেছিল। এমন ছোট ছোট অনেক কাজ করেছি। এবং দেখলাম, কাজগুলো আমি ভালোই পারছি। কিন্তু কখনো ফ্যাশন নিয়ে পেশাগত ভাবনা মাথায় আসেনি।’


অনেক কাজের কাজী
তিনি বলেন, ছোটবেলায় এমনকি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও আমার ক্যারিয়ার নিয়ে কোন ভাবনা ছিল না। তবে বিয়ের পরে আমি নানা কিছু করার চেষ্টা করেছি। অনেক রকম কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। কিন্তু কোন কাজেই থিতু হতে পারিনি। আমার শুশুর বাড়ির সবাই ছিল বেশ চমৎকার মানুষ। বিশেষত আমার শাশুড়ি। তিনি আমাকে নানা রকম কাজে উৎসাহ দিতেন। আমার স্বামীর বড় বোন জেরীন আপা (ডা. জেরীন দিলাওয়ার হোসেন) বিটিভিতে গান করতেন। আমার শাশুড়িও আমাকে টেলিভিশনে কাজ করার কথা বলতেন।


‘আমি ক্যাটারিং ব্যবসা করেছি ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত। বেশ কিছুদিন বিটিভিতে চিত্রনাট্য লেখার কাজ করেছি। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিটিভির ‘কারুকাজ’ (বাচ্চাদের হস্তশিল্প শেখানোর অনুষ্ঠান) অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম আমি, উপস্থাপনাও করেছি। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)-তে শিক্ষকতা করেছি। শিক্ষকতা করার সময় আমার মনে হয়েছিল- একটি ভাষা শেখার ইন্সটিটিউট গড়ে তুলব। ব্রাজিলে স্নাতক পড়ার সময় আমার ৯টি ভাষা শেখার সুযোগ হয়েছিল। সঙ্গত কারণেই সেটি করা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।’

ছবিতে (বাঁ থেকে) ওয়াহিদা হোসেন, বাংলাদেশের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী জহিরউদ্দিন খান, ব্রাজিলের শিক্ষামন্ত্রী মুরিলো ডি অ্যাভেলার হিনজেল। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অনুষ্ঠিত 'সবার জন্য শিক্ষা' সম্মেলন। ১৯৮৪ সালের ২৯ আগস্টের ছবি।
ছবিতে (বাঁ থেকে) ওয়াহিদা হোসেন, বাংলাদেশের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী জহিরউদ্দিন খান, ব্রাজিলের শিক্ষামন্ত্রী মুরিলো ডি অ্যাভেলার হিনজেল। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অনুষ্ঠিত 'সবার জন্য শিক্ষা' সম্মেলন। ১৯৮৪ সালের ২৯ আগস্টের ছবি।

যেভাবে রুবিজ শুরু
ওয়াহিদা হোসেন বলেন, আইএসডিতে পড়ানোর সময় আমার নিজের ও বাচ্চাদের জন্য নানা রকম নকশার পোশাক নিজেই তৈরি করতাম। সেগুলো দেখে অন্যান্য বাচ্চার অভিভাবকরা আগ্রহ করে একই রকম পোশাক বানিয়ে দেয়ার কথা বলতেন। আমার নকশাকৃত পোশাকের প্রতি অনেকেরই আগ্রহ লক্ষ্য করলাম। সেই ভাবনা থেকে ২০টি শাড়ি, ১৫০টি বাচ্চাদের পোশাক তৈরি করি। সপ্তাহখানেকের মধ্যে সেগুলো বিক্রি হয়ে গেল। এটি ২০০৫ সালের ঘটনা।


তিনি বলেন, এরপর আমার সব ব্যস্ততা এক জায়গায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করলাম। ২০০৭ সালের ১৫ জানুরারি শুরু হল রুবিজ’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা। আমার ও আমার আরও দুই বোনের নাম- রূপা, বিনা ও জেবা। এ নামগুলোর প্রথম বর্ণগুলো সাজিয়ে ফ্যাশন হাউজের নাম রাখা হল- রুবিজ। আর রুবি আমার মায়ের ডাকনাম।

জাতিসংঘ আয়োজিত 'পরিবেশ ও উন্নয়ন' শীর্ষক সম্মেলনে উপদেষ্টা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন ওয়াহিদা হোসেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে খুশি কবিরকে (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলে চলমান ছিল এ সম্মেলন। সম্মেলনের এক ফাঁকে আড্ডায় তোলা ছবি।
জাতিসংঘ আয়োজিত 'পরিবেশ ও উন্নয়ন' শীর্ষক সম্মেলনে উপদেষ্টা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন ওয়াহিদা হোসেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে খুশি কবিরকে (ডান থেকে দ্বিতীয়)। ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলে চলমান ছিল এ সম্মেলন। সম্মেলনের এক ফাঁকে আড্ডায় তোলা ছবি।

রুবিজ শুরু থেকেই গুলশানে ( ডেবোনেয়ার কমপ্লেক্স, অ্যাপার্টমেন্ট সি২, বাড়ি ১/এ, রোড ৭৯, গুলশান ২) রয়েছে। ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট আয়তনের এই আউটলেটে কাজ করছে ১২ জন দক্ষ কর্মী। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে রুবিজ।


১২ বছরের চ্যালেঞ্জ
মূলত শিশুদের পোশাক দিয়েই শুরু হয়েছিল ফ্যাশন হাউজ রুবিজের যাত্রা। চলতি বছর (২০১৯) রুবিজ ১২ বছরে পা দিল।

 

ওয়াহিদা বলেন, আমার কাজের অনেক প্রশংসা পেয়েছি। পোশাকের নকশায় বৈচিত্র্য ও অনন্যতা রাখতে আপোষ করিনি। পেশাদারিত্ব আর প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে কোন কমতি রাখিনি, কিন্তু এখনো ঠিক ব্যবসায়ি হয়ে উঠতে পারিনি। ব্যবসাটা ঠিক শিখে উঠতে পারিনি। চারপাশে এত ঈর্ষা, একে অপরকে কোণঠাসা করার পায়তার প্রকট।


ফ্যাশন রানওয়েতে রুবিজ
রুবিজ এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ফ্যাশন শোতে অংশ নিয়েছে। তাতে অনেকের সামনে রুবিজের সৃজনশীল নকশার কাজ দেখানোর সুযোগ হয়। ২০০৯ সালে দিয়া এশিয়ানা ফ্যাশন শো, ২০১৪ সালে কুমারিকা মিস ন্যাচারাল, ২০১৫ সালে পণ্ডস লাস্ট্রাস রানওয়ে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ উইভার্স ফেস্টিভ্যাল ও উইন্টার লাক্স রানওয়েতে অংশ নেয় ওয়াহিদা হোসেনের রুবিজ। এসব ফ্যাশন প্রদর্শনীতে রুবিজের পোশাক আলোচনায় আসে, সমাদৃত হয়।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ উইভার্স ফেস্টিভ্যালে রুবিজের নকশা করা শাড়িতে মডেল ইমি (মাঝে) ও ওয়াহিদা হোসেন (ডানে)।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ উইভার্স ফেস্টিভ্যালে রুবিজের নকশা করা শাড়িতে মডেল ইমি (মাঝে) ও ওয়াহিদা হোসেন (ডানে)।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে পণ্ডস আয়োজিত লাস্ট্রাস রানওয়ে’তে অংশ নিয়েছিলাম। আমার নকশাকৃত পোশাকের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছি। কিন্তু পরেরবার সে ফ্যাশন রানওয়েতে অংশ নেয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। প্রতিবছর অনেক ফ্যাশন শোর আয়োজন হচ্ছে। কিন্তু কোন ফ্যাশন শোতেই সঙ্গত কারণেই অংশ নেয়া হচ্ছেনা।


ওয়াহিদা হোসেন বলেন, পিছিয়ে পড়া অথচ গুণগত মানের ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের জন্য এসব প্রদর্শনী বেশ কার্যকর। যারা এসব প্রদর্শনীর আয়োজক, তারা প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন হাউজগুলোর পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত পিছিয়েপড়া ফ্যাশন হাউজগুলোর প্রতি নজর দিতে পারে। একটি ভাল প্ল্যাটফর্ম অনেককেই এগিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।


দুবাইয়ের স্টুডিও ৮-এ রুবিজ
দুবাইয়ের প্রখ্যাত বহুজাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের প্রদর্শনী কেন্দ্র স্টুডিও এইট। বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে ফ্যশন পণ্য প্রদর্শিত হয়। এই ফ্যাশন হাউজে রুবিজের পোশাক নিয়মিত স্থান পেত।

দুবাইয়ের স্টুডিও ৮-এ রুবিজের পোশাক
দুবাইয়ের প্রখ্যাত স্টুডিও ৮-এ রুবিজের পোশাক

ওয়াহিদা হোসেন বলেন, আমি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম স্টুডিও ৮-এ আমার ডিজাইন করা পোশাক পাঠাই। প্রায় ৬ মাস আমি তাদের সঙ্গে কাজ করেছি। তখন স্টুডিও ৮ ছিল দুবাইয়ের জুমেইরা এলাকায়। এখন এটি আছে দুবাই মলে। সেসময় আমার প্রায় ২০টি ডিজাইন স্থান পায় স্টুডিও ৮-এ।


কুচার নাকি বিস্পোক
‘রুবিজ মূলত বিস্পোক টেইলরিং করে থাকে- ক্রেতার চাহিদা মত। আমাদের পোশাকের নকশা একেবারেই অনন্য- কারও সঙ্গে মিলে যাবার সম্ভাবনা খুব কম। ওয়েডিং কুচারও আমরা করি। আমাদের সিগনেচার ফ্যাশন পণ্য হল শাড়ি। শাড়ি নিয়ে আমাদের অনেক এক্সপেরিমেন্ট আছে, এবং সেগুলো যথেষ্ট সমাদৃতও হয়েছে।’ জানালেন ওয়াহিদা হোসেন।


বিস্পোক বা কুচার আর সাধারণ টেইলরিংয়ের পার্থক্যটা পরিষ্কার করে তিনি বলেন- মোটা দাগে সাধারণ টেইলরিং হছে কাপড় কাটা ও সেটি শরীরের মাপমত সেলাই করা। কিন্তু বিস্পোক বা কুচার হল কাপড় কাটা থেকে শুরু করে সেলাই করা, নকশা যুক্ত করা, পাথর বা চুমকি-মতি বসানো, এমব্রয়ডারি করাসহ সব কাজের একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।

মুম্বাইয়ের প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার সঙ্গে দুবাইয়ে ব্যক্তিগত আড্ডার একটি মুহূর্তে ওয়াহিদা হোসেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ছবি।
মুম্বাইয়ের প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার সঙ্গে দুবাইয়ে ব্যক্তিগত আড্ডার একটি মুহূর্তে ওয়াহিদা হোসেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ছবি।

তিনি বলেন, বিস্পোকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ক্রেতার সঙ্গে পরামর্শ করা বা কন্সালটেশন। একটি নির্দিষ্ট ডিজাইন একজন নির্দিষ্ট ক্রেতার জন্যই করা হয়ে থাকে। সে ডিজাইন নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরামর্শ করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়। এভাবেই সম্পন্ন করতে হয় একটি কুচার বা বিস্পোক ফ্যাশন পণ্যের ফরমায়েশ (অর্ডার)।


রুবিজের পোশাকের দাম প্রসঙ্গে ওয়াহিদা হোসেন বলেন, আমাদের পোশাকের দাম ৩ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। সাধারণত শাড়ি পাওয়া যায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। আমরা রেডিমেড পোশাক খুব কম করি। মূলত আমাদের পোশাক কাস্টম ওয়ারড্রোব। সাধারণত টেইলরিং বলতে যা বোঝায় তা নয়। বিস্পোক টেইলরিং সেবা হওয়ার কারণে এর দামের এমন তারতম্য।


নারী-পুরুষের পরিধেয় পোশাক ছাড়াও রুবিজের রয়েছে আসবাবপত্রের জন্য নকশাদার পণ্য, যেমন- কুশন, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, খাবার কক্ষ, অন্দর কক্ষসহ ঘর সাজানোর নানা রকম বাহারি উপকরণ।


ফ্যাশনে পরিবর্তন নিত্যনৈমিত্তিক
ওয়াহিদা হোসেন বলেন, সময়ের সঙ্গে চারপাশ বদলে যায়- মানুষের রুচি, পছন্দ। পরিবর্তন আসে মানুষের যাপিত জীবনে। আর অবাধ তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে ফ্যাশনে পরিবর্তন নিত্যনৈমিত্তিক। আমি বিশ্বাস করি, ফ্যাশন ব্রেক্স দ্য বর্ডার (ফ্যাশন সীমানা ডিঙ্গাতে পারে)। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগ। মানুষের দেখার, শেখার ও রপ্ত করার সুযোগ ও প্রাপ্যতা অনেক বেশি। ফ্যাশন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক হয়ে। এর ভালো-মন্দ দুটো দিকই রয়েছে।

স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে ওয়াহিদা হোসেন
স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে ওয়াহিদা হোসেন

অনন্য বাবার আদুরে মেয়ে
বিস্পোক ফ্যাশন ডিজাইনার ওয়াহিদা হোসেনের জন্ম ১৯৭২ সালের ১ আগস্ট। আদি বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। বাবা মেজর জেনারেল (অব:) আবদুস সালাম। মা পারভিন সালাম।


আবদুস সালাম নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও পরে তিনি সরে দাঁড়ান। তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান।


পরিবারে দুই বোনের মধ্যে ওয়াহিদা বড়। তার ছোট বোন মুনাইবা সালাম। যুক্ত আছেন তাদের পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে।


চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৯০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ওয়াহিদা। বাবা সেনা কর্মকর্তা হবার কারণে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে বসবাস ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ হয়েছে তার। ১৯৯৪ সালে তিনি ব্রাজিলের ইউনিভারসিডেড ডি ব্রাসিলিয়া (ব্রাজিল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে ভাষাতত্ত্ব (ভাষা ও অনুবাদ) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বাবার কর্মসূত্রে ১৯৯২-১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রায় চার বছর ব্রাজিলে বসবাস ছিল তার। এর আগে ১৯৯১ সালে তিনি লন্ডনে বসবাস করেন।

গুলশান ২ এ ২৬শ বর্গফুট আয়তনের রুবিজের আউটলেট
গুলশান ২ এ ২৬শ বর্গফুট আয়তনের রুবিজের আউটলেট

ওয়াহিদা হোসেন ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন। তার স্বামী জায়েদ হোসেন, পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে সারতাজ হোসেন। মাদ্রিদের আইই বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি পড়ছেন। দ্বিতীয় সন্তান রেহনুমা হোসেন দুবাইয়ের রেপটন স্কুলে আইবি (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট) পড়ছেন। ছোট মেয়ে জুনেয়রা হোসেনও দুবাইয়ের একই স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।


‘বাবার সুবাদে আমার দেশবিদেশের নানা সংস্কৃতি জীবনযাপন দেখার, বোঝার ও রপ্ত করার সুযোগ হয়েছে। দেশবিদেশের খ্যাতনামা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছি। আমি বাবার ভীষণ আদুরে মেয়ে। বাবার কথা, কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা, নীতিবোধ, জীবনবোধ আমাকে ভীষণ প্রভাবিত করেছে। আমার জীবনের অনেক প্রাপ্তি বাবার জন্যই সম্ভব হয়েছে।’ বাবা মেজর জেনারেল আব্দুস সালামকে নিয়ে এমন উপলব্ধি ওয়াহিদা হোসেনের।

গুলশানে নিজ শোরুমে ওয়াহিদা হোসেন। ছবি: নতুন আলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
গুলশানে নিজ শোরুমে ওয়াহিদা হোসেন। ছবি: নতুন আলো টোয়েন্টিফোর ডটকম

রুবিজ নিয়ে নতুন ভাবনা
‘আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রুবিজ নিয়েই। শুধুমাত্র বিস্পোক টেইলরিংয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে রেডিমেড পোশাকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিব। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আমরা আরেকটু মনযোগী হচ্ছি- রুবিজের ওয়েবসাইট তৈরির কাজ চলছে। আগামী মাসেই সেটি করা সম্ভব হবে।’



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত