বৃহস্পতিবার । জুলাই ৭, ২০২২ । । ০৭:০৩ এএম

বিশেষ সাক্ষাৎকার

মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কুঞ্জ: সালমান মাহমুদ

সৈনূই জুয়েল | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2022-05-15 06:49:58 BdST হালনাগাদ: 2022-06-15 22:29:09 BdST

Share on

সালমান মাহমুদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেড। ছবি: নতুন আলো

সালমান মাহমুদ। একজন তরুণ ব্যবসায়ি। তিনি আবাসন কোম্পানি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সম্প্রতি নতুন আলোকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার ব্যবসা, আগামীর ভাবনাসহ ব্যক্তি ও কর্মজীবনের নানা অনুষঙ্গ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈনূই জুয়েল।


‘আবাসন ব্যবসা অত্যন্ত পরিশ্রমী কাজের একটি খাত। এ খাতে সাফল্যের সম্ভাবনা যেমন বড়, তেমনি রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। এই ব্যবসায় বড় অংকের বিনিয়োগ সবসময় প্রস্তুত থাকা চাই। আবার টাকা থাকলে ভবন করে ফেলা সহজ, কিন্তু ফ্ল্যাট সময়মত বিক্রি করে ফেলা সহজ নয়। দেখা যায়, এই খাতে অসংখ্য প্রকল্প সম্পন্ন হয়ে আছে, কিন্তু সময়মত ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগ আটকে থাকে দীর্ঘ সময়।’ কথাগুলো বলছিলেন সালমান মাহমুদ।

ছোট ভাই মাহমুদ আনজুম, বাবা নাছির ইউ মাহমুদের সঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| (বাঁ থেকে) ছোট ভাই মাহমুদ আনজুম, বাবা নাছির ইউ মাহমুদের সঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

চাকচিক্যের চেয়ে চ্যালেঞ্জ বেশি
সালমান বলেন, আবাসন ব্যবসাকে বাইরে থেকে দেখে যতটা চাকচিক্যময় (গ্ল্যামারাস) মনে হয়, ভেতরে এ ব্যবসা ততটাই কঠিন, চ্যালেঞ্জিং আর ভীষণ পরিশ্রমের। সময় অসময়ে প্রচুর ছোটাছুটি, দৌঁড়ঝাপ করতে হয়। অনেক বড় ঝুঁকি নিতে হয়- আর্থিক ঝুঁকি, নির্মাণকাজের ঝুঁকি, দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ নানা বিষয়ে দায় নিয়ে কাজ করতে হয়। একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বটা অনেক বেশিই শ্রমসাধ্য। খুব চাপ সামলে কাজ করতে হয়। প্রকল্পের শুরু থেকে প্রকল্প হস্তান্তর পর্যন্ত সব বিষয় সমানতালে নজরদারি করতে হয়। যখন তখন প্রকল্প পরিদর্শনে যেতে হয়।

সম্প্রতি (মার্চ ২০২২) সস্ত্রীক তুরস্ক ঘুরে এসছেন সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| সম্প্রতি (মার্চ ২০২২) সস্ত্রীক তুরস্ক ঘুরে এসছেন সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

তিনি আরও বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম যেভাবে দ্রুত সময়ে হুটহাট বেড়ে যাচ্ছে, তাতে ফ্ল্যাট কেনা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। ফ্ল্যাটের নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে ফ্ল্যাটের বিক্রয় মূল্যের সামঞ্জস্যতা ধরে রাখা যায় না। একজন ক্রেতার সঙ্গে যে দামে ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি হয়, তা শেষ পর্যন্ত বহাল রাখা ভীষণ চাপের।


এগিয়ে যাচ্ছে কুঞ্জ
কুঞ্জ ডেভেলপার্সের প্রকল্প প্রসঙ্গে সালমান মাহমুদ বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই উত্তরা আর মিরপুরে। বিগত ১০ বছরে মিরপুরে বড় ধরণের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। ফলে মিরপুরে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। আমরাও মিরপুরে বেশ কয়েকটি প্রকল্প শেষ করেছি। কয়েকটি চলমান প্রকল্প আছে। মিরপুর আবাসন খাতের জন্য বেশ সম্ভাবনাময়।

বাবা নাছির ইউ মাহমুদ প্রসঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| বাবা নাছির ইউ মাহমুদ প্রসঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

তিনি বলেন, উওরায় অবস্থিত ১০তলা উচ্চতার বাণিজ্যিক ভবন ‘আরএস কুঞ্জ’, মিরপুরের পল্লবীতে ১৪তলা আবাসিক ভবন ‘কালশী কুঞ্জ’ আমাদের ল্যান্ডমার্ক প্রকল্প।


সালমান মাহমুদ জানান, কুঞ্জ ডেভেলপার্স এ পর্যন্ত ২০টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে, এর মধ্যে ১২টি উত্তরায় এবং ৮টি মিরপুরে। বসুন্ধরায় ৩টি সহ চলমান প্রকল্প আছে ৮টি। আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুরু হবার অপেক্ষায়। সব মিলিয়ে বলতে চাই, কুঞ্জ ডেভেলপার্স তার আপন গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে সালমান মাহমুদ ও তার স্ত্রী আলিফ লায়লা সোনাম। ছবি: সংগৃহীত

 

কুঞ্জ গ্রুপের স্বপ্ন দেখি
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সালমান মাহমুদ বলেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা নিয়ে প্ল্যান করছি। আমরা কন্ডোমোনিয়াম প্রকল্প নিয়েও আগামীতে কাজ করবো। এছাড়াও আমাদের বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে। স্বপ্ন দেখি কুঞ্জ গ্রুপ অব কোম্পানি হবে একদিন।


তিনি বলেন, আবাসন ব্যবসার মূলমন্ত্র প্রতিশ্রুতি, গুণগত নির্মাণ। আমরা নির্ধারিত সময়ে তো বটেই, এমনকি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রকল্প শেষ করেছি- এমন অনেক উদাহরণ আমাদের আছে। কুঞ্জ ডেভেলপার্স মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

একটি বিশেষ মুহুর্তে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| একটি বিশেষ মুহুর্তে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডে জনবল প্রায় ৬০ জন। এর মধ্যে প্রধান কার্যালয়ে ২০ জন, বাকিরা বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করছেন।


কুঞ্জ ডেভেলপার্সের বাইরে তার পছন্দের আবাসন কোম্পানি অ্যাসিউর বিল্ডার্স লিমিটেড ও নন্দন কানন হাউজিং লিমিটেড। তাদের কাজগুলো চমৎকার, উল্লেখ করেন তিনি।

বেড়াতে ভালোবাসেন সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| বেড়াতে ভালোবাসেন সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

কফির চুমুকে দিনের শুরু
সালমান মাহমুদ তার প্রতিদিনের জীবনযাপন প্রসঙ্গে বলেন, আমার জীবনযাপন খুব একটা আদর্শিক, তা বলা যাবে না। সাধারণত ৯টায় ঘুম থেকে উঠি। এক কাপ কফি পান করে অফিসে চলে যাই। সকালের নাশতা সাধারণত করা হয় না। ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে দুপুরের খাবার খাই। অফিসের শেষ করতে করতে ৭টা বেজে যায়। সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ক্লাবে যাই- ৩০-৪০ মিনিট সাঁতার কাটি। রাতের খাবার খাই ১১টায়। ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি।


সালমান মাহমুদ উত্তরা ক্লাব, ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য।


তিনি বলেন, জীবনের জন্য সুস্থতা, ফিটনেস খুবই জরুরী। ২০১৩ সালের দিকে আমার ওজন ছিল ১৩০ কেজি। বিয়ের আগে সেটি কমিয়ে ৯০ কেজিতে নিয়ে এসেছি।

আবাসন ব্যবসা প্রসঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| আবাসন ব্যবসা প্রসঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

‘শুক্রবার আমার বেশ পছন্দের দিন। পরিবার নিয়ে পুরোপুরি দিনটি কাটানোর চেষ্টা করি। তাছাড়া বেড়াতে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা খুব উপভোগ করি।’ জানান সালমান মাহমুদ।


সালমান মাহমুদ ২০১৭ সালে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী আলিফ লায়লা একজন ইন্টেরিয়র স্থপতি। যদিও তিনি গৃহিণী হিসেবেই জীবন যাপন করছেন।


সালমান মাহমুদ জিয়নের জন্ম ১৯৮৯ সালের ২৪ জুলাই ঢাকার উত্তরায়। বাবা আবাসন ব্যবসায়ি নাসির ইউ মাহমুদ। মা নীলা মাহমুদ গৃহিণী। পরিবারে দুই ভাইয়ের মধ্যে সালমান বড়। ছোট ভাই মাহমুদ আনজুম।


বিএএফ শাহিন স্কুলে সালমানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হাতেখড়ি। এ স্কুলে পড়েছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপর তিনি স্কলাস্টিকায় ভর্তি হন। এখান থেকে ২০০৭ সালে ও’ লেভেল এবং ২০০৯ সালে এ’ লেভেল সম্পন্ন করেন। ঢাকাস্থ লন্ডন স্কুল অব কমার্স থেকে ২০১৩ সালে ব্যবসা প্রশাসন বিভাগে স্নাতক (বিবিএ) সম্পন্ন করেন।


২০১৪ সালে তিনি বাবার ব্যবসা কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডে পরিচালক (বিপণন) পদে যোগ দেন। শুরু হয় তার কর্মজীবন। সে সময় এ আবাসন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন নাছির ইউ মাহমুদ।


সালমানের ছোট ভাই মাহমুদ আনজুম সুইডেনের লুন্ডি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। চাকরির পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ব্যবসা রয়েছে তার। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন তিনি।

প্রয়াত সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| প্রয়াত সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

এক প্রশ্নের উত্তরে সালমান মাহমুদ বলেন, আবাসন ব্যবসায় কাজের চাপ, পরিশ্রম অনেক বেশি। আবার বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়েই আমি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে যাইনি। আমাকে কাজে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। পেশাদারিত্ব, দক্ষতা দেখাতে হয়েছে। কোম্পানিতে চার বছর একটানা কাজ করেছি পরিচালক (বিপণন) পদে।


সালমান মাহমুদ ২০১৮ সালে কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন।


বাবা যখন পথপ্রদর্শক
‘আবাসন ব্যবসার সবকিছু বাবা হাতে কলমে আমাকে শিখিয়েছেন। এখনও তার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছি। শুধু তাই নয়, বাবা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মেন্টর, পথপ্রদর্শক। বাবার গাইডলাইন, শিক্ষা, কৌশল, বুদ্ধিমত্তা আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করে।’ বাবা নাছির ইউ মাহমুদ প্রসঙ্গে এভাবেই বললেন সালমান মাহমুদ।

একটি বিশেষ মুহুর্তে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

| একটি বিশেষ মুহুর্তে সালমান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

 

নাছির ইউ মাহমুদ দেশের বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ি। তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্সের চেয়ারম্যান।


আরও পড়ুন: নাছির ইউ মাহমুদের সাক্ষাৎকার


রাজনীতিতে আগ্রহ নেই
‘আমি সক্রিয় রাজনীতিতে নেই। তাছাড়া এটা আমার আগ্রহের বিষয়ও নয়। আমার বাবা জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। সে সুবাদে আমিও জাতীয় পার্টির একজন সাধারণ সমর্থক।’ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালমান মাহমুদ এসব কথা বলেন।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত