শনিবার । জুন ১২, ২০২১ । । ০৮:২১ পিএম

ভাষানটেকে কার্টনে নারীর লাশ

কার্টনে থাকা ফোন নম্বর সূত্রে গ্রেপ্তার ঘাতক

সৈনূই জুয়েল | নতুনআলো টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রকাশিত: 2021-04-09 01:33:04 BdST হালনাগাদ: 2021-04-22 13:55:04 BdST

Share on

ভাষানটেকে কার্টনে পাওয়া নাজমা আক্তারের লাশ, পাশে ঘাতক আবু জিয়াদ রিপন। ছবি: নতুন আলো ২৪.ডটকম

সম্প্রতি (১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার) ভাষানটেক থেকে উদ্ধার হওয়া কার্টনে ভর্তি অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। ওই নারীর নাম নাজমা বেগম (৩৪)। কার্টনে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ঘাতক আবু জিয়াদ রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে রাজধানীর কাজীপাড়ায় অবস্থিত একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্ক করা এবং তা থেকে বড় অংকের অর্থ দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করার জের থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ।

নাজমার হত্যাকারি আবু জিয়াদ রিপন পুলিশে হেফাজতে
মোহাম্মদপুর থানা এলাকার আসাদ গেট থেকে রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় রিপনকে গ্রেপ্তার করে ভাষানটেক থানা পুলিশ। এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় মিরপুর ১৪ নম্বর ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ইমারজেন্সি গেটের পাশে দেয়াল ঘেঁষে রাস্তার ওপর কার্টন ভর্তি অজ্ঞাতনামা মহিলার লাশ পাওয়া যায়। পরে ভাষানটেক থানা পুলিশ ভিকটিমের আঙুলের ছাপ নিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। পরিচয় শনাক্তের পর ভিকটিমের মা সাহানুর সানু (৫৫) থানায় এসে ছবি দেখে ভিকটিমকে শনাক্ত করেন। ভিকটিমের মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভাষানটেক থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।

ভাষানটেক থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন যা বললেন
এক নজরে নাজমা হত্যাকাণ্ড

৩১ মার্চ বুধবার
>> রাত ৮টার দিকে- ডেলিভারিম্যান রিপনের সাথে নাজমার পরিচয়, মিরপুর ১০ নম্বর ওভারব্রিজে
>> নাজমা কর্তৃক রিপনকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব, ৪০০ টাকায় চুক্তি
>> রাত সাড়ে ৯টায়- নাজমাকে নিয়ে রিপন তার কর্মস্থলে যান
>> রিপন ২ বার শারীরিক সম্পর্ক করেন, বিপরীতে নাজমাকে ৫০০ টাকা দেন
>> নাজমা ৫০০ টাকা না নিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন, ধর্ষণ মামলার হুমকি দেন, ব্ল্যাকমেইল করেন
>> এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিপন নাজমার গলা চেপে ধরলে, এক পর্যায়ে নাজমা মারা যান
>> নাজমাকে কার্টনে ভরে ডেলিভারি প্যাকেট আকারে ফেলে আসা হয় মিরপুর ডেন্টাল কলেজের কাছে

১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার
>> সকালে কার্টনে নাজমার লাশ পাওয়া যায়
>> বিকালে থানায় হত্যা মামলা দায়ের
>> কার্টনে পাওয়া ফোন নম্বর সূত্রে ফিরোজকে কুষ্টিয়া থেকে ভাষানটেক থানায় আনা হয়
>> ফিরোজ সূত্রে হত্যাকারী হিসেবে রিপনের নাম বেরিয়ে আসে

৪ এপ্রিল রোববার : সন্ধ্যায় আসাদগেট থেকে রিপন গ্রেপ্তার, হত্যার দায় স্বীকার
৫ এপ্রিল সোমবার : হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী

নাজমার হত্যাকারি আবু জিয়াদ রিপন
ভাষানটেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মামলার পর উদ্ধারকৃত কার্টনের গায়ে লেখা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল নাম্বার ব্যবহারকারী ফিরোজ আল আনামকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে মিরপুরের পশ্চিম কাজীপাড়া বসুন্ধরা রোডে তাদের অনলাইন ব্যবসা মেঘা এশিয়া স্কাইশপ অফিসের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।


তিনি বলেন, ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। এর ঘণ্টা খানেক পর ছেলেটি কাঁধে করে একটি কার্টন নিয়ে এসে রিকশাযোগে চলে যায়। উক্ত ভিডিও ফুটেজ দেখে ফিরোজ ছেলেটিকে অনলাইল ব্যবসার ডেলিভারি বয় রিপন মর্মে শনাক্ত করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর আসাদ গেট এলাকা থেকে রোববার সন্ধ্যায় রিপনকে গ্রেফতার করা হয়। রিপন এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

খুন হওয়া নাজমা বেগমখুন হওয়া নাজমা বেগম
ভাষানটেক থানার ওসি (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজীপাড়াস্থ অনলাইন পণ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেঘা এশিয়া স্কাইশপের দুইজন মালিক। একজন ফিরোজ আল আনাম ও অপরজন সোহাগ। ঘটনার দিন (৩১ মার্চ) সকালে ফিরোজ কুষ্টিয়া চলে যান। আর সোহাগ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। কার্টনে পাওয়া ফোন নম্বরটি মূলত সোহাগের, যেটি তিনি ফিরোজের কাছে রেখে যান। পুলিশ মূলত সোহাগকেই খুঁজছিলেন। কিন্তু সোহাগ দেশে না থাকায় ফিরোজকে শনাক্ত করে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় আনা হয়। ফিরোজের সহযোগিতায় তাদের ডেলিভারিম্যান রিপনের ফোন নম্বর ট্র্যাক ও ট্রেইস করে আটক করা হয়।


গ্রেফতার হওয়া আবু জিয়াদ রিপন সোমবার (৫ এপ্রিল) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।



  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত